ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অনুপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অনুপস্থিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

এক দশকেরও বেশি আগে যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, তখন তার প্রধান আলোচক ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। প্রায় ২০ মাসের আলোচনায় কেরি অন্তত ১৮টি ভিন্ন দিনে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। অনেক সময় দিনে একাধিকবারও তার এই বৈঠক হয়। উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক কূটনীতি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকের স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ঐতিহ্যগতভাবে দেশের বড় কূটনৈতিক দায়িত্বগুলোর নেতৃত্ব দেন, যেমন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থেকে শুরু করে ইসরাইল-ফিলিস্তিন চুক্তি পর্যন্ত।

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যখন এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সর্বশেষ দফায় একটি প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও থাকবেন সেই জায়গাতে এমনটাই হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে প্রায়ই দেখা যায় দেশে অবস্থান করতে। ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় নেই মার্কো রুবিওর নাম। এ মাসের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফার বৈঠকেও অংশ নেননি রুবিও। গত এক বছরে জেনেভা ও দোহায় অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বৈঠকেও তিনি ছিলেন অনুপস্থিত। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ নিয়ে সমাধানের প্রচেষ্টায় বিদেশে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলেও তাকে দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংকট ও যুদ্ধ চললেও, গত বছরের অক্টোবর মাসে ইসরাইল সফরের একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি ছাড়া তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যাননি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে তার দ্বিতীয় দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় মার্কো রুবিও প্রায় কোনো বিদেশ সফরই করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে. ব্লিংকেন ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত ১১টি বিদেশ সফর করেন এবং প্রায় তিন ডজন শহর পরিদর্শন করেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত রুবিও মাত্র ছয়টি বিদেশি শহর সফর করেছেন। যার মধ্যে ২০২৬ সালের শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে মিলান সফরও রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন