ঈদের পরেই স্থানীয় নির্বাচন— দেশ রূপান্তরের প্রধান সংবাদ এটি। খবরে বলা হয়, মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ঢেলে সাজানোর পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাসেই এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হতে পারে ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে। আগামী মে মাসের শেষার্ধে তফসিল ঘোষণা করে জুন মাসের দিকে ধাপে ধাপে এ ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে, বরিশাল বিভাগ থেকে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের বিষয়টি সরকারের প্রাথমিক বিবেচনায় রয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসবে। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পর তারিখ ঘোষণা হবে।
তীব্র খাদ্য সংকটে পড়া ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ— সমকালের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। এই খবরে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই ছিল ১০টি দেশে। এর মধ্যে ছিল বাংলাদেশও। চলতি বছর দেশগুলোতে পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। গতকাল শুক্রবার গ্লোবাল নেটওয়ার্ক এগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যহীনতায় ছিল। এর মধ্যে এক কোটি ৫৬ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ছিল 'সংকটজনক পর্যায় ৩-এর ঘরে। ৪০ লাখ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ছিল 'জরুরি পর্যায় ৪'-এর স্তরে।
২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বাংলাদেশে 'উচ্চমাত্রার খাদ্যহীনতায়' থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৬ লাখ (৩২ শতাংশ) কমেছে। তবে 'চরমভাবাপন্ন' আবহাওয়াসহ নানা কারণে এ পরিস্থিতি ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে একটি মাঝারি মানের 'পুষ্টি সংকটের' দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির সূচকে অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। সার্বিকভাবে সর্বাধিক সংখ্যক 'জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির' শিকার হওয়া ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়।
আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— হামে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশ।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশে অতিসংক্রামক রোগ হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( ডব্লিউএইচও ) । বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ' বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি । গত বৃহস্পতিবার ডব্লিউএইচওর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এসব কথা উল্লেখ করা হয়েছে । বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ টিতে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া , বিপুলসংখ্যক শিশু আক্রান্ত হওয়া , টিকা না দেওয়ার কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা বিবেচনা করে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে সংস্থাটি । ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি ( আইএইচআর ) ফোকাল পয়েন্ট সংস্থাটিকে জানায় , দেশে হামের রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে । জানুয়ারি থেকেই দেশে সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে । সংস্থাটি বলছে , ঢাকায় রোগীর বড় অংশ পাওয়া গেছে ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় । এর মধ্যে ডেমরা , যাত্রাবাড়ী , কামরাঙ্গীরচর , কড়াইল , মিরপুর এবংডব্লিউএইচওর প্রতিবেদন » ৯১ % জেলায় রোগী মানে জাতীয়ভাবে সংক্রমণ ।
ডব্লিউএইচও বলছে , দেশের আট বিভাগেই রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ টিতে সংক্রমণ ছড়িয়েছে । অর্থাৎ ৯১ শতাংশ জেলায় রোগী পাওয়া গেছে । এর মানে হচ্ছে , হাম এখন জাতীয়ভাবে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে । প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৭৯ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু । এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু ৬৬ শতাংশ এবং ৯ মাসের কম বয়সী শিশু ৩৩ শতাংশ । সন্দেহভাজন হামে শিশু রোগীর মৃত্যুর যে তথ্য পাওয়া গেছে , তাদের অধিকাংশই টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু । ডব্লিউএইচও বলছে , অনেক শিশু টিকা পায়নি বা এক ডোজ পেয়েছে । আবার কিছু শিশু টিকা নেওয়ার বয়স হওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে । অধিকাংশ রোগী অর্থাৎ ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু । এটি এ বয়সী শিশুদের মধ্যে বড় ধরনের রোগপ্রতিরোধ ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়া । প্রতিবেদনে বলা হয় , সংক্রমণের পর প্রতি এক হাজার রোগীর মধ্যে প্রায় একজনের এনসেফালাইটিস এবং প্রতি এক হাজার রোগীর মধ্যে দুই থেকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে । ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু , অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম ব্যক্তি । ডব্লিউএইচও বলছে , অতীতে হামের নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ভালো করলেও সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদানে ঘাটতি , টিকার সরবরাহ সমস্যা এবং নিয়মিত ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়েছে । হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু : দেশে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশু এবং রোগটির উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশু মারা গেছে । এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে । আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯৮ টি শিশুর ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে । গত এক দিনে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৭২ টি শিশু । আর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু । স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে , গত এক দিনে হামে ও হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে । নিশ্চিত হাম নিয়ে বাকি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে , ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২১৫ টি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা যায় । তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৬০ শিশু । এর মধ্যে ৩৬৩ শিশুই ঢাকা বিভাগের । এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৯৯ শিশু গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী , ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা গেছে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯ শিশুর মধ্যে । এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৯ হাজার ৭০৫ শিশু । তাদের মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ জনের হাম শনাক্ত হয় ।
প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর — হাম মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। খবরে বলা হয়, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রথম যৌথ সভা হয় ১২ এপ্রিল। ওই সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, যৌথ সভার পক্ষ থেকে একটি বহুপক্ষীয় কমিটি গঠন করার সুপারিশ করা হয়। সুপারিশে বলা হয়, শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রোগতত্ত্ববিদ, ভাইরাস বিশেষজ্ঞ, ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য বিশেষজ্ঞদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই কমিটির কাজ হবে রোগ শনাক্তের অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নির্দেশনা দেওয়া। এই কমিটি এখনো গঠিত হয়নি। গত বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা কমিটি গঠনের যে সুপারিশ করেছেন তা আমি জানি না, আমাকে এখনো জানানো হয়নি।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম— দুই দফা দরপত্রেও সরবরাহকারীদের আগ্রহ নেই। ২ লাখ টন ইউরিয়া আমদানিতে কেউ আগ্রহ না দেখানোর কথা বলা হয়েছে এই সংবাদে। গ্যাস সংকটে দেশে একটি বাদে সব ইউরিয়া সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তাই আসন্ন আমন মৌসুমের আগে বেসরকারিভাবে দুই লাখ টন ইউরিয়া আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। এজন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে এতে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। এখন তৃতীয় দফায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি দরপত্রে যাওয়ার চিন্তা করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সময়মতো সার সরবরাহ করতে না পারলে ইমেজ সংকটে পড়ার শঙ্কায় দরপত্রে সাড়া দিচ্ছেন না সরবরাহকারীরা। দেশে ইউরিয়া সারের বার্ষিক চাহিদা ২৬ লাখ টনের মতো। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত আমদানি হয়েছে ১৩ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৮ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত রোববার পর্যন্ত দেশে ইউরিয়া সারের মজুদ ছিল ৩ লাখ ৪৩ হাজার টন, যেখানে ৪ লাখ টন মজুদকে নিরাপদ ধরা হয়।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— Geneva Camp: Drug trade thrives despite crackdowns; অর্থাৎ কঠোরতা সত্ত্বেও জেনেভা ক্যাম্পে ফুলেফেঁপে উঠছে মাদক ব্যবসা। এই খবরে বলা হয়, কয়েক দশক ধরে ঢাকায় মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জেনেভা ক্যাম্প; যেখানে অসংখ্য 'বিশেষ অভিযান' সত্ত্বেও এই অবৈধ ব্যবসা টিকে আছে। এখানকার বাসিন্দারা বলছেন, চব্বিশের অগাস্টের পর পরিস্থিতি বদলেছে, আগে যেখানে ক্যাম্পের সরু গলিতে মাদকের ব্যবসা সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রধান সড়কগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি এটি আরও সংগঠিতভাবে হচ্ছে। গত ১৯ মাসে এখানে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আইন প্রয়োগে শিথিলতার সুযোগে আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো। এদিকে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ঘন ঘন অভিযান ও পুলিশের চেকপয়েন্ট বসানো সত্ত্বেও মাদক ব্যবসা প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। ক্যাম্পের ভেতরে অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, অভিযানের খবর আগে থেকেই মূল হোতাদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। কেবল মাদক বহনকারী, বিক্রেতা ও ক্রেতাদেরই নিয়মিত গ্রেপ্তার করা হয়। আর যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছেন। ক্যাম্প সূত্র বলছে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাংশ এবং তাদের তথ্যদাতারা টাকার বিনিময়ে মূল হোতাদের গ্রেপ্তার এড়াতে সাহায্য করে। এ কারণেই মাদক নেটওয়ার্কটি ভেঙে দেওয়া যায়নি।
ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের ফাঁদ ব্যক্তি থেকে রাজনীতি— নয়া দিগন্তের প্রধান খবর এটি। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে অনলাইনভিত্তিক ব্ল্যাকমেইলিং সংগঠিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কে রূপ নিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আদায়, মানহানি কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর বিস্তার রাজনীতি, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ক্ষমতার বলয় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল কারসাজি এখন একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর পরিবার বা শীর্ষ নেতাদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফটোকার্ড, বিকৃত ভিডিও বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এসব কনটেন্ট অনেক সময় পরিকল্পিতভাবে তৈরি হয়ে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে বিব্রত করা বা জনমত প্রভাবিত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত মানহানির বিষয় নয়; বরং 'ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা' ও 'সাইকোলজিক্যাল অপারেশন'-এর অংশ। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে তরুণদের মধ্যে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা সহজ।
যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম 'প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং'। এতে বলা হয়, সরকার বদল হলেও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও হিংস্রতায় পরিবর্তন দেখা যায় না। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে গ্যাংয়ের সদস্যরা। সাধারণ পথচারী থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য-কেউই রেহাই পান না তাদের হাত থেকে। আইনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছোট-বড় বেশির ভাগ অপকর্মের সঙ্গে কিশোর অপরাধীরা জড়িত। গত কয়েক বছরে রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার মামলা হলেও বিচার ও শাস্তির নজির খুবই কম। প্রভাবশালীদের তদবিরের কারণে অধিকাংশ আসামি দ্রুতই জামিনে বেরিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মূলত মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির না থাকায় নানা উদ্যোগ ও অভিযানের পরও গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য থামানো যাচ্ছে না।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, রাজধানীসহ সারা দেশে আড়াইশর বেশি কিশোর গ্যাং গ্রুপে অর্ধলাখের বেশি সদস্য রয়েছে। তাদের নেতৃত্বে থাকা গডফাদারদের সংখ্যাও অর্ধশতাধিক। ক্ষমতার পালাবদল হলেও এসব গডফাদাররা খোলস বদলে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে মিশে যায়। ছিনতাই, ডাকাতি, খুন, মাদকবাণিজ্য, জমিদখল ও ইভটিজিংসহ সব ধরনের অপরাধ করে যাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। বিভিন্ন সময়ে গ্যাংয়ের সাধারণ সদস্যরা গ্রেফতার হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে গডফাদাররা। অতীতে গডফাদার হিসাবে ১৬ কাউন্সিলরের নাম এলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরাধীদের পূর্ববর্তী রেকর্ড বিবেচনায় নিয়ে জামিন দেওয়াসহ বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কঠোর হলে গ্যাংভিত্তিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি কিশোরদের সঠিকভাবে গাইড করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার সংবাদ- জ্বালানির উত্তাপ সর্বত্র। এতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন দেশজুড়ে, যা স্পষ্টভাবে পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সর্বত্রই এখন জ্বালানির উত্তাপ। গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া, লোডশেডিং এবং সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে ব্যবসায়ী সবাই। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও এখন ঊর্ধ্বমুখী।
অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ পড়বে শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি পর্যন্ত। পরিবহন ভাড়ার পাশাপাশি ধাপে ধাপে শিল্প ও কৃষি উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা সরবরাহব্যবস্থায় ব্যয় বাড়িয়ে দেবে। আর সবটাই শেষ পর্যন্ত যাবে ক্রেতা-ভোক্তার পকেট থেকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতির একটা সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনের প্রতিটি স্তরে খরচ বাড়ায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাপর্যায়ে গিয়ে পড়বে। গ্রামাঞ্চলেও এর প্রভাব কম নয়। সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। ফলে কৃষকের লাভ কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।
