দেশ জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমে দিনের বেলায় যাত্রী ও যানবাহন পারাপার কমে গেলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোররাত পর্যন্ত পারাপারের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, বর্তমানে এই নৌরুটে মোট ১২টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে। তিনি বলেন, তাপদাহের কারণে দিনের বেলায় যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কিছুটা কমে যায়। কিন্তু সন্ধ্যার পর থেকে রাতভর পারাপার বাড়তে থাকে।
রাজবাড়ীসহ আশপাশের এলাকায় বর্তমানে তীব্র গরমে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। খোলা ঘাট এলাকায় দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে গিয়ে শিশু, নারী ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। অনেক যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, দিনের বেলায় রোদে দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় অসহনীয় হয়ে উঠছে। পর্যাপ্ত ছাউনি বা বিশ্রামের ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। পানির স্বল্পতা ও তাপজনিত ক্লান্তি যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ঘাট সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে পারাপারের সময়ভেদে চাপের পার্থক্য তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে রাতের দিকে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ফেরি ব্যবস্থাপনায় আরও সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে। সবমিলিয়ে বলা যায়, তীব্র তাপদাহের মধ্যেও দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌরুটে ফেরি চলাচল সচল থাকলেও যাত্রীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষ করে দিনের বেলায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যাত্রীদের দাবি, ঘাট এলাকায় ছাউনি বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা নিশ্চিত করা হোক; যাতে এই তীব্র গরমে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমে। তাপদাহের এই সময়ে স্বাভাবিক ফেরি চলাচল নিশ্চিতে কর্তৃপক্ষের তৎপরতা থাকলেও যাত্রীদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজন আরও মানবিক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের কথা বিবেচনায় এনে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। এদিকে, নতুন করে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ নদী পারাপারের জন্য ঘাটে আসা যানবাহনগুলোর যাত্রীদের বাধ্যতামূলকভাবে নামিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরিতে উঠাচ্ছেন এবং ফেরির মধ্যে যানবাহন থেকে যাত্রীদের নামিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরি থেকে সংযোগ সড়কে উঠতে বাধ্য করছেন। এ কারণে তীব্র তাপদাহে বেশি ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন হাজার হাজার যাত্রীরা। এ ছাড়াও সংযোগ সড়কে অতিরিক্ত ধুলোবালির কারণে যাত্রীদের সমস্যা ও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে, যেকোনো সময় দেখা দিতে পারে দুর্ঘটনা এবং অতিরিক্ত ধুলোবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের রোগ।
