দাগনভূঞায় জামায়াত সমর্থকের মায়ের মৃত্যু নিয়ে গুজব

ফন্ট সাইজ:

ফেনীর দাগনভূঞায় জামায়াতের এক সমর্থকের মায়ের মৃত্যু নিয়ে মিথ্যাচার ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। বিএনপি’র স্থানীয় নেতারা বলছেন, ফেনী-৩ আসনসহ সারা দেশে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় মানতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে একটি মহল। যদিও মরহুমার পরিবার থেকেও মৃত্যু নিয়ে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তার পরিবার জানায়, দাগনভূঞার জায়লস্কর ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী রৌশন আরা দীর্ঘ তিন বছর ধরে মরণব্যাধি ক্যান্সার আক্রান্ত। তিনি গত আড়াই মাস হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর গত শনিবার তিনি মারা যান। কিন্তু জামায়াতের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলে জামায়াত সমর্থক জয়নাল আবদীন দুলালের ওপর হামলার খবর শুনে রৌশন আরার মৃত্যু হয়েছে মর্মে ছড়ানো হয়।
উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইমুম হক রাজীব অভিযোগ করেন, দুলারের ওপর হামলা হয়েছে এটি যেমনি সত্যি, তেমনি রৌশন আরা দীর্ঘদিন ক্যান্সার আক্রান্ত ছিলেন। এ কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। একইসঙ্গে দুলালের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তিনি। এর আগে, নির্বাচনের পরদিন উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের হীরাপুর গ্রামে জামাল উদ্দিনের প্রবাসী ছেলে জামায়াত সমর্থক জয়নাল আবেদীন দুলালের ওপর হামলা করে বিএনপি সমর্থকরা। এ খবরে তার মা রৌশন আরা স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও জামায়াত দলীয় সমর্থকদের মাধ্যমে গুজব ছড়ানো হয়। উপজেলা জামায়াতের আমীর গাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, জয়নাল আবেদীন দুলালের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে দুলালের মা রৌশন আরা বেগম বহু আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ছেলের ওপর হামলার সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন দুলালের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন। এদিকে, ফেনী-৩ আসনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (মানিক) বলেন নির্বাচনের আগে, ভোটের দিন ও নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি’র বিজয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে কথা হয়েছে। আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, হামলার ঘটনাটির কারণ ও কারা জড়িত তা উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে বিএনপি নেতারা। দুলালের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াতকর্মীকে মারধরের বিষয়টি প্রশাসন অবগত আছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন