মানিকগঞ্জ-২ আসনের ভোটের মাঠের চালচ্চিত্র নিয়ে মানবজমিনের অনুসন্ধানী রিপোর্টের শিরোনাম ছিল বিএনপি’র পথ পরিষ্কার, নেই কোনো সমীকরণ। নির্বাচনের ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্তর বড় অঙ্কের ভোটের জয়ই প্রমাণ করেছে মানবজমিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন শত ভাগই সত্য। রিপোর্ট প্রকাশের পরদিন থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এক শ্রেণির মানুষজন রিপোর্টের বিরুদ্ধে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মইনুল ইসলাম খান শান্ত ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬। প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট প্রার্থীর চাইতে ৯৪ হাজার ২৬৩ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন।
মানিকগঞ্জ-২ আসনটি হরিরামপুর উপজেলার পদ্মার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তের দুর্গম চরাঞ্চল। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকার কাছের সিংগাইর উপজেলার শিল্পাঞ্চল দ্বারা বেষ্টিত। ঢাকার কাছের জেলা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম খান শান্ত পারিবারিকভাবে সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা সাবেক শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর মইনুল ইসলাম খান শান্ত একটি উপনির্বাচনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ধানের শীষের জনপ্রিয়তার সঙ্গে পিতা ও নিজের ব্যক্তির জনপ্রিয়তায় ভোটের মাঠে নিজেকে শক্তপোক্ত প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তৈরি করেছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে। ভোটের ময়দানে তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামেন খেলাফত মজলিস, জাতীয় পার্টিসহ মোট ৪ জন।
এখানে জামায়াতে ইসলাম থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি জাহিদুর রহমানকে। তবে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে খেলাফত মজলিসের সালাহ উদ্দিনকে সমর্থন জানানোয় তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকেই ভোটের মাঠ সম্পূর্ণই বিএনপি প্রার্থীর অনুকূলে চলে যায়। তাছাড়া, এই আসন থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এসএম আব্দুল মান্নান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নিলেও তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। তিনি ভোট পেয়েছেন ৭ হাজার ৮১। ধানের শীষের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী সালাহ উদ্দিন নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত নয়। এ কারণে একটি বড় দলের বিরুদ্ধে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারায় ভোটের রাজনীতিতে ছিটকে পড়ে যায়।
