জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে নারায়ণগঞ্জে ১০ জনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশের জন্য আগামী ৫ মে দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।
মামলায় শামীম ওসমান ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন-শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়নের শ্যালক মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ ভিকি, নারায়ণগঞ্জ রাইফেলস ক্লাবের সাবেক সভাপতি তানভীর আহমেদ টিটু, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি রাজু আহমেদ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম উদ্দিন আহমেদ, যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সাজনু, ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান রিয়াদ ও সোহানুর রহমান শুভ্র।
এদিন ডিসচার্জ (অব্যাহতি) আবেদনের বিষয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মো. আলী হায়দার, শেখ মুস্তাভী হাসান ও আমির হোসেন। আসামিরা পলাতক থাকায় সরকারি খরচে নিয়োগ পেয়ে আইনি লড়াই করছেন তারা। শুনানিতে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণেই এ মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনো অভিযোগ আনতে পারেনি প্রসিকিউশন। তাই তাদের অব্যাহতি চান তারা। এ সময় আইনজীবী আলী হায়দারের ডিসচার্জ আবেদন নিয়ে আপত্তি জানান প্রসিকিউশন। শামীম ওসমানসহ অন্য আসামিদের সঙ্গে তার যোগসাজশ রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ‘ডিসচার্জ আবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কথিত বলে উল্লেখ করেছেন শামীম ওসমানসহ চারজনের পক্ষে নিয়োগ পাওয়া স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আলী হায়দার। ফরমাল চার্জের বাইরেও তিনি বিভিন্ন জিনিস এনেছেন। তাই এ আবেদন নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৫ মে দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।’
উল্লেখ্য, গত ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানিয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়। শুনানিতে মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
প্রসিকিউশনের আনা তিনটির প্রথম অভিযোগ হলো-২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চাষাঢ়া, ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ডসহ আশপাশের এলাকায় কিশোর আদিল, ইয়াছিন, শিক্ষার্থী পারভেজ, পোশাককর্মী রাসেল, ছয় বছরের শিশু রিয়াসহ ছয়জনকে হত্যা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, ২১ জুলাই ফাতুল্লা থানাধীন ভূইগড় বাসস্ট্যান্ডের সামনে আবদুর রহমান ও মোহাম্মদ রাকিবকে হত্যা করা হয়। তৃতীয় অভিযোগে ৫ আগস্ট বদিউজ্জামান ও আবুল হাসানকে হত্যা করা হয়। এই ৩টি অভিযোগে ১২ আসামির বিরুদ্ধে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একই দিন অভিযোগ আমলে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১।
অন্যদিকে জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার জেরা শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক শুরু আগামী ১১ মে।
