উদার গণতন্ত্র ও নিয়ন্ত্রণহীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অবস্থানের প্রশংসা করেছেন সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা। তারা বলেছেন, সরকারের এই অবস্থান অব্যাহত থাকলে সংবাদমাধ্যমও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে যাবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার্স ওনার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াব নেতৃবৃন্দ এমন আশ্বাস দেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার সরকার সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ হতে বা বৈরী অবস্থানে যেতে চায় না। সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে যা বিএনপি’র নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যেও আছে।
বৈঠকের শুরুতে নোয়াবের সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বক্তব্য রাখেন। তিনি সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরে সেগুলোর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। পুরো বিষয় মনোযোগ দিয়ে শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও আশ্বাস দেন। নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো ও দূরত্ব কমাতে প্রতি তিন মাস অন্তর সম্পাদকদের সঙ্গে বসারও আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নোয়াব নেতৃবৃন্দের মধ্যে সংগঠনের সভাপতি দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, দৈনিক সমকাল-এর প্রকাশক এ কে আজাদ, ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, নিউএজ-এর এডিটোরিয়াল বোর্ডের চেয়ারম্যান এএসএম শহীদুল্লাহ খান, সংবাদ সম্পাদক ও প্রকাশক আলতামাশ কবির, দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস-এর প্রকাশক নাসিম মনজুর, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী বৈঠকে অংশ নেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী), অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্র শিল্প নিয়ে কথা হয়েছে। সংবাদপত্র শিল্প এখন নানা চাপের মধ্যে আছে। অর্থনৈতিক চাপ সবচেয়ে বেশি। সংবাদপত্র শিল্প টিকে থাকবে কি থাকবে না- এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি শুনেছেন। আমরা এটাও বলেছি যে, আপনি তো এই শিল্পেরই একজন মানুষ। আপনারা জানেন উনি (প্রধানমন্ত্রী) একটা পত্রিকার সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন এবং তিনি এটার সুখ-দুঃখ সম্পর্কে জানেন। তিনি শুনেছেন। তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের যেসব দাবি-দাওয়া, সব ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সময়ের ব্যাপার, এটা ইমপ্লিমেন্ট করতে হয়তো কিছুটা সময় লাগতে পারে। সেটা বলেছেন। তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি আপনি উদার গণতন্ত্রের পথে হাঁটছেন। এটা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। এই উদার গণতন্ত্রের পথে যদি হাঁটেন গণমাধ্যম হিসেবে আমরা সমর্থন দেবো। প্রেস ফ্রিডমের কথা আমরা বলেছি। তিনি বলেছেন, আমি কাউকে হোস্টাইল করতে চাই না। এটা খুবই ভালো কথা। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার প্রধান এটা আগে বলেননি।
নোয়াব সভাপতি আরও বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, আগের সরকারগুলো কী করেছে, তিনি সবই জানেন। তিনি বলেছেন আমরা সে পথে যাবো না, এটা আমাদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে। নোয়াবের উল্লেখযোগ্য দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই বিষয়টা আমরা আলোচনা করবো। আমরা দেখবো যে, আসলে তারা বিনা কারণে জেলে আছেন কিনা, তাদের জামিন দেয়া যায় কিনা।
নোয়াব সভাপতি বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাছে সংবাদপত্রের বকেয়া বিল আছে, সেটা নিয়েও কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন। কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের যা বক্তব্য সেটা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে, শেখ হাসিনার সময় ১৬-১৭ বছরে একবার তিনি সম্পাদক ও মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তার সময়ে ১৮ মাসে বসেছিলেন একবার। আর প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমরা তিন মাসে একবার বসবো। আমি মনে করি, এটাই আজকের মিটিংয়ের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তাহলে দূরত্ব যেটা আছে, সেটা কমে যাবে।
এদিকে বৈঠকের সূত্র জানায়, সভার শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের জন্য নোয়াবের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান নেতৃবৃন্দ।
নোয়াবের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের এই যুগে বিশ্বাসযোগ্যতা এবং নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সংবাদপত্র ও গণমাধ্যম এখনো জনগণের আস্থার অন্যতম বড় জায়গা। তবে বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমগুলো অত্যন্ত কঠিন আর্থিক অবস্থার মধ্যদিয়ে যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে নোয়াব আশা করে যে, নতুন সরকার গণমাধ্যমের বিদ্যমান সমস্যাগুলো অত্যন্ত সহনশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বিবেচনা করবে। সংবাদপত্রের প্রধান ও একমাত্র কাঁচামাল কাগজ আমদানিতে শূন্য শুল্ক ধার্য করার অনুরোধ করে নোয়াব।

আ ন ম হাবিবুল্লাহ
৩ মাস আগেউভয় পক্ষকে বাংলাদেশকে সবার আগে রেখে কাজ করতে হবে। তবেই একটি জনবান্ধব, সাবলম্বী দেশ পাব আমারা।