দীর্ঘদিন পর কাঙ্ক্ষিত ভূমিধস বিজয় পেয়েছে ধানের শীষ। জেলার সবক’টি আসন পুনরুদ্ধার হওয়ায় এখন উৎফুল্ল বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের নিজ জেলা ও উপজেলায় ধানের শীষের এমন অভূতপূর্ব বিজয়কে অন্যভাবে মূল্যায়ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন এই ফলাফল এ জেলায় জামায়াতের রাজনীতিতে এক নতুন চ্যালেঞ্জ ও বার্তা। জেলার ৩টি আসনে জামায়াত ও ১টিতে জামায়াত জোটের পরাজয় চায়ের রাজ্যে ভোটের রাজনীতিতে যা একটি স্পষ্ট বার্তা। ভোটের প্রচার-প্রচারণায় জামায়াত, বিএনপি ও তাদের জোট ভোটের মাঠে তৃণমূলে তাদের জনসমর্থন নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে ছিলেন। চূড়ান্ত ফলাফলে জেলার ৪টি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে উজ্জীবিত বিএনপি ও তার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শুরু থেকে হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারে মাঠে সক্রিয় ছিল বিএনপি। জানা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আইনপুরের মাঠে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ২য় নির্বাচনী জনসভায় মৌলভীবাজার জেলার ৪টি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। সমাবেশে তিনি দেশকে এগিয়ে নিতে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে আহ্বান জানান। ওই জনসভায় তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলেন আগামীতে আপনাদের জেলায় আসবো যদি আপনারা আমাদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করেন। ইনশাআল্লাহ তখন কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নিয়ে আপনাদের সামনে আসা হবে কথা হবে। এমন প্রতিশ্রুত তিনি দেন। দীর্ঘদিন উন্নয়ন বঞ্চিত এ জেলাবাসী তার এই বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হন। প্রবাসী ও পর্যটন অধ্যুষিত চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে বিজয় পায় বিএনপি। মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমদ মিঠু। ধানের শীষ প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ৯৮২৮২। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. আমিনুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৮৩০১৩। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১০০৪৬৯ আর ‘না’ পেয়েছে ৭৯৫২৭ ভোট। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শুকু। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮৩৮১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমীর ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৫৩৪৫৮। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ৮৩৯৩০ আর ‘না’ পেয়েছে ৬৭৯৩৫ ভোট। মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নেতা এম নাসের রহমান। ধানের শীষ প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ১৫৬৭৫৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রাপ্ত ভোট ৭৭৬৩৬। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১৩৩৯১৬ ভোট আর ‘না’ পেয়েছে ৭৮৬৭১ ভোট। মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল) বিএনপি’র প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বিজয়ী হন। ধানের শীষে প্রাপ্ত ভোট ১৭০৮৭৭। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের শেখ নূরে আলম হামিদী। দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে তার প্রাপ্ত ভোট ৫০২০৪। এই আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পেয়েছে ১২৭৪২৮ ভোট। আর ‘না’ পেয়েছে ১০৭৬৩৩ ভোট। ৯২টি চা বাগানের এ জেলায় ৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২৪ জন প্রার্থী। মোট ভোটার ছিলেন ১৬ লাখ ১৪ হাজার ৯৩৬ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৫৫৮টি। মোট ভোট পড়েছে ৫১.২৭ শতাংশ। পোস্টাল ভোট রেজিস্ট্রেশন হয়েছিল ২৩ হাজার ৭৩৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসে পৌঁছায় ১৬৮৬২ ভোট। বাতিল হয় ১৪৬৪ ভোট।
মৌলভীবাজারের ৪টি আসনে ধানের শীষের ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যে
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার থেকে
১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
