ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬টি আসনের সবক’টিতে জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের নেতৃত্বাধীন জোট প্রার্থীরা পোস্টালে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্রের ভোটের যোগফলে জয় আসেনি তাদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের ৮ প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম আমিনুল ইসলাম। ৫৪২ ভোট পেয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের ভোট যোগে মোট ২৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। পোস্টালে ৩০৯ ভোট পেয়েছেন এ আসনে বিজয়ী বিএনপি’র আবদুল হান্নান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ঘোড়া প্রতীকের এ কে এম কামরুজ্জামান পেয়েছেন ৯৯ ভোট। পোস্টালে ৯৯৭টি গণভোটের মধ্যে আসনটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৮৫৩টি এবং ১৪৪টি ‘না’ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে মোট পোস্টাল ভোট ৩৩০১। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬১৭ ভোট পেয়েছেন এনসিপি’র আশরাফ উদ্দিন। মোট ২০ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছেন তিনি। জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১০৫২টি পোস্টাল ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের জুনায়েদ আল হাবীব পেয়েছেন ৫০৭ ভোট। পোস্টালে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে এই আসনে ৩১৬০টি, ‘না’ ভোট ৪০৯টি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে ৫৪১৭টি পোস্টাল ভোটের মধ্যে ২৯৮০ ভোট পেয়েছেন এনসিপি’র আতাউল্লাহ। বিএনপি প্রার্থী মো. খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল পেয়েছেন ২১৮২ ভোট। এই আসনে পোস্টাল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৩৪৮টি, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৪৬টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে ৪৪৭০টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার। বিজয়ী বিএনপি’র মুশফিকুর রহমান পেয়েছেন ১৭১৮ ভোট। ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫৬৬৬টি, ‘না’ ভোট পড়েছে ৬৩৭টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ১১ দল সমর্থিত রিকশা প্রতীকের আমজাদ হোসাইন পেয়েছেন ৩১০৮টি পোস্টাল ভোট। কেন্দ্রের ভোট যোগে তার মোট ভোট ৬০ হাজার ৮৫৭। বিজয়ী বিএনপি’র আবদুল মান্নান পেয়েছেন ১০০৮টি পোস্টাল ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের কাজী নাজমুল হোসেন তাপস পেয়েছেন ৭১৩ ভোট। পোস্টালে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২৩৯৬টি এবং ‘না’ ভোট ৩০০টি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে জামায়াতের মো. মহসীন পেয়েছেন ২০১১টি ভোট। বিজয়ী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি পেয়েছেন ১১১১টি ভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২৯৪৬টি এবং ‘না’ ভোট ৪০১টি। জেলার ৬টি আসনে পোস্টাল ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন মোট ৪০ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে প্রবাসের ২৯ হাজার ৭০৭ জন এবং দেশের ১০ হাজার ৪৭৫ জন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে ১২২৬ জন প্রবাসী এবং দেশ থেকে ৫৮৬ জন, ব্রাহ্মণবড়িয়া-২ আসনে ৪৭৮৯ জন প্রবাসী, দেশের ১২০৬ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ৭২৬৪ জন প্রবাসী এবং দেশের ২৪৮৪ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে প্রবাসের ৬৩১৮ জন, দেশের ৩০২৪ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ৬৪৬৯ জন প্রবাসী, দেশের ১৬৪৫ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের ৩৬৪১ জন প্রবাসী এবং ১৫৩০ জন দেশ থেকে পোস্টাল ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ শেষে জেলার ৬টি আসনের ৮০৫টি কেন্দ্রে সাধারণ ভোট গণনার পাশাপাশি জেলা সদরের বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে পোস্টাল ভোট গণনা হয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা সাধারণ ভোটের ফলাফল প্রেরণের পর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীর প্রাপ্ত পোস্টাল ভোট যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
