দেশে শিল্পখাতে খেলাপি ঋণের হার ৩১.২ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যাংকগুলো এখন চরম আতঙ্কে ভুগছে। এ কারণে তারা নতুন করে ঋণ দিতে পারছে না। ব্যাংকগুলো এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতেও অনীহা দেখাচ্ছে। এমন তথ্য দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডিসিসিআই।
বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত ব্যাংকিং খাতের সমন্বয় ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস বিএবি-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট নওশাদ মোস্তফা, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আরেফিন, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়ে ৬.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের ৭.১৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এছাড়া শিল্প খাতের ঋণের টাকা বর্তমানে ৫০.৪৬ শতাংশ অনাদায়ী এবং খেলাপি ঋণের হার ৩১.২ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যাংকগুলো এখন চরম আতঙ্কে ভুগছে। এছাড়া ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নেওয়া ঋণের ৩৫.৪৩ শতাংশও এখন সময়মতো পরিশোধ না হয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে তারল্যের কোনো অভাব নেই; ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৪ কোটি টাকার তারল্য সম্পদ এবং রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। ব্যাংক খাতের তারল্যের অন্যান্য সূচকগুলোও অত্যন্ত শক্তিশালী; লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও দাঁড়িয়েছে ১৮৫.৩১ শতাংশ, যা ন্যূনতম চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও ১০৫.৬৫ শতাংশ এবং আমানত প্রবৃদ্ধি এক বছর আগের ৮.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ১০.৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে। তিনি আরও বলেন, পাবলিক সেক্টর ক্রেডিট গ্রোথ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ২৬.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাই জানুয়ারি সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ৭৩ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ, যা গত বছরের তুলনায় ৬৭৩ শতাংশ বেশি, প্রমাণ করে যে ব্যাংকগুলো এখন রিস্ক ফ্রিক লেন্ডিংকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এই প্রবণতা বেসরকারি খাতকে ঋণবঞ্চিত করে একটি চরম ক্রেডিট ক্রাউডিং আউট পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সিএমএসএমই খাতের উন্নয়ন মানেই দেশের উন্নয়ন। এ খাতের উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করতে পারে। সেজন্য একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ব্যাংক কোম্পানি আইনসহ আর্থিক খাতের অন্যান্য আইনের সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। শ্রমঘন শিল্প, যার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব, সেগুলোর উন্নয়নে বর্তমান সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এছাড়া এরই মধ্যে বন্ধ হওয়া শিল্প-কারখানা চালুর পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পখাতে উৎপাদন বাড়ানো এবং নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সরকারের পক্ষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা কোনোমতেই, কোনোভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে ডিক্টেট করতে চাই না। বরং রাজস্ব ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করবে সরকার। তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রভাব খাটাতে চায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। আর তথাকথিত কেতাবি কায়দায়ও বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত হবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বাংলাদেশ ব্যাংক আপনাদের (ব্যবসায়ী) কাছ থেকে শুনবে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার বলেন, এসএমই ফাইন্যান্সিং সহজীকরণ করার কোনো বিকল্প নেই। বেসরকারি ব্যাংকগুলো এ খাতে অর্থায়নে এগিয়ে এসেছে। তবে সরকারের নীতিনির্ধারকসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, যার নিরসন প্রয়োজন।
শিল্পখাতে খেলাপি ঋণ ৩১.২%, চরম আতঙ্কে ভুগছে ব্যাংকগুলো: ডিসিসিআই
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
অর্থ বাণিজ্য
৫ মাস আগে
১৫ এপ্রিল (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ৪৩ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
