নির্বাচনের ফল কারচুপি এবং ফল ঘোষণার পর বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা-নির্যাতনের অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দমন-পীড়ন বন্ধ না হলে রাজপথে কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুক্রবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল কারচুপি করা হয়েছে। ফল ঘোষণার পর বিরোধী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও বাড়িঘরে আগুন দেয়া হচ্ছে। দমন-পীড়ন চলতে থাকলে আমরা রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’
তিনি বলেন, ‘শুধু বিরোধী জোট নয়, বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কারণেও হামলা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটছে। মনে হচ্ছে দেশে যুদ্ধাবস্থা চলছে।’
আসিফ মাহমুদ দাবি করেন, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী নিহত হয়েছেন। এনসিপি যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, সেসবের প্রায় সব জায়গায় দলটির নেতা-কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্তত তিনটি আসনে ফল পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৮, পঞ্চগড়-১ ও দিনাজপুর-৫ আসনে আমাদের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ফল আটকে রাখা, একাধিকবার গণনা ও কাটাকাটির মাধ্যমে অল্প ব্যবধানে পরাজিত দেখানো হয়েছে।’ এসব আসনে ভোট পুনর্গণনার আবেদন নির্বাচন কমিশনে করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ভোটগ্রহণ শেষে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে ছিলেন। পরে হঠাৎ ফলাফলে ট্রানজিশন দেখা যায়। কিছু কেন্দ্রে ফল প্রকাশ বিলম্বিত হয়, কোথাও কেন্দ্র ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটে।’ তার অভিযোগ, ‘কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে গণনা শেষ হওয়ার পরও গভীর রাতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে।’ ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৭ আসনের ফল ঘোষণায় ‘অসংগতি’ ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাইয়ে দিতে পরিকল্পিতভাবে ভোট গণনায় কারচুপি করা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণভোটে প্রায় ৬৮ শতাংশ ভোটার হ্যাঁ ভোট দিয়েছেন। এই গণ রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছাড়া সংসদ সদস্যদের শপথ নেয়া উচিত নয়।’
