রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে এসে হাতেনাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার সময় সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ওই যুবককে চিহ্নিত করেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অন্য একজন পরীক্ষার্থীর হয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন। তাৎক্ষণিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তাকে আটক করা হয়। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বা পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা কেউ তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেননি।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযোগকারী না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা দায়ের প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে। এ কারণে আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির মতো অপরাধে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগেও মামলা করতে পারে, যদি পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে। এদিকে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের দাবি, এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি সরবরাহ করে আসছে। তাদের মতে, শুধুমাত্র একজনকে আটক করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
একজন পরীক্ষার্থী বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিতে আসি। অথচ একটি চক্র টাকা নিয়ে অন্যকে বসিয়ে দিচ্ছে। এটা আমাদের প্রতি চরম অন্যায়।” সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাবে এমন অপরাধ বারবার ঘটছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
