মধুপুরে মধুর আশ্বাস

মো. নজরুল ইসলাম মধুপুর (টাঙ্গাইল) থেকে | ২০১৬-০২-২৩ ৭:১৭
মধুপুরে ৬টি ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্বিন্যাস হওয়ার পর প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে নানা শঙ্ক দেখা দিয়েছে। কারণ নির্বাচনী এলাকা পুনর্বিন্যাস করে পৃথক ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন না করেই গেজেট প্রকাশ করায় নানা শঙ্কা দানা বেঁধেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে মধুপুর থেকে ধনবাড়িকে পৃথক করে মধুপুর ভাগে ৬টি ছিল। ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে বড় ৩টি ভেঙে মোট ১১টি ইউনিয়নের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আউশনারা ইউনিয়ন ভেঙে করা হয়েছে আউশনারা, মহিষমারা এবং কুড়ালিয়া, অরণখোলা ইউনিয়ন ভেঙে অরণখোলা, বেরীবাইদ ও কুড়াগাছা এবং শোলাকুড়ী ইউনিয়ন ভেঙে শোলাকুড়ী ও ফুলবাগচালা ইউনিয়ন করা হয়েছে। ওয়েবসাইটে ৬টি ইউনিয়ন থাকলেও নতুন গেজেটকৃত ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অর্ধশত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ভোটযুদ্ধে থাকবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তারা ভোটারদের কাছে গিয়ে মধুর কথা শোনাচ্ছেন। ভোর হতে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে কড়া নাড়ছেন। নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সুন্দর স্বচ্ছ দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নশীল আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করার। ১১ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-
আউশনারা ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আ. আজিজ, অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান জুয়েল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, কৃষকলীগ নেতা সুরুজ্জামান মুন্সি, সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি আলী আকবর বিএনপির রতন হায়দার, আজাহার আলী এবং মো. নুরুল ইসলাম।
মহিষমারা ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বর্তমান ইউ.পি চেয়ারম্যান কাজী আবদুল মোতালেব, ছাত্রলীগ নেতা মহি উদ্দিন এবং যুবলীগ নেতা মো. আব্দুস সালাম সেন্টু। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবদুস সালাম খান।
কুড়ালিয়া ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবদুল মান্নান, ছাত্রলীগ নেতা মঞ্জুরুল হাসান, রওশন আলম এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আহাম্মদ আলী। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন।
আলোকদিয়া ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. কোরবান আলী বি.এস.সি, সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান তালুকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আবু সাইদ তালুকদার (দুলাল), যুবলীগ নেতা মো. আবু সাইদ খান। বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ, দুলাল মেম্বার, আকতারুজ্জামান কাজল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন।
গোলাবাড়ী ইউনিয়ন: গোলাবাড়ী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. গোলম মোস্তফা খান বাবলু ও বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর তালুকদার, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আ. মান্নান, বিএনপির  প্রভাষক ফরহাদ হোসেন তরফদার।
অরণখোলা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগ সদস্য আক্তার হোসেন সরকার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান ইমাম মিন্টু, সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বেনেড্রিক মাংসাং, এম এ মজিদ সরকার এবং মো. আবদুল রহিম । বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির সরকার, মো. লস্কর আলী মেম্বার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন আদিবাসী নেতা সিলভেস্টার মাংসাং।
বেরীবাইদ ইউনিয়ন: আওয়ামী লীগের মজিবর রহমান মাস্টার, আবদুল কাদের মেম্বার, মো. জুলহাস উদ্দিন মেম্বার এবং বিএনপির জয়নাল আবেদিন বাবলু, মো. কাবিল উদ্দিন মেম্বার, মঞ্জুরুল ইসলাম মেম্বার, মো. আয়নাল হক মেম্বার।
কুড়াগাছা ইউনিয়ন:  উপজেলা কৃষকলীগ নেতা ফজলুল হক, আজাহারুল ইসলাম রাজু, আবুল হোসেন, মিজানুর রহমান বিএনপির- ছালাম মেম্বার, জুলহাস উদ্দিন মেম্বার।
শোলাকুড়ি ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আক্তার হোসেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি সদস্য আদিবাসী রঞ্জিত নকরেক ও বিএনপির অ্যাডভোকেট-শাহাজাহান কবির, সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান।
ফুলবাগচালা ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য সম্পাদক রেজাউল করিম বেনু, সদস্য জামাল উদ্দিন আহমেদ ওরফে জামাল মিলিটারী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা লুটিস দিও এবং  বিএনপির মুক্তার হোসেন, জামায়াতের বোরহানুল ইসলাম, স্বতন্ত্র  ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ্‌ ও হাসর আলী।
মির্জাবাড়ী ইউনিয়ন: উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান সাদিকুল ইসলাম ছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থী প্রভাষক শাহজাহান তালুকদার। বিএনপির সম্ভাব্য একক প্রার্থী যুবদল নেতা হারুন শিকদার। নবগঠিত কুড়ালিয়া ইউনিয়নের দড়িহাতীল গ্রামের মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মূল আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন তো আগে থেকেই নেই। তারপরও আউশনারা ইউনিয়ন ভেঙ্গে ৩টি ইউনিয়ন হয়েছে। সমস্যা তো থেকেই যাবে। আউশনারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব মো. হোসেন আলীর স্ত্রী রাশিদা বেগম সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন ইউনিয়নগুলো সম্পর্কে ভোটারদের ধারণা স্পষ্ট নয়। এ জটিললতায় আদৌ নির্বাচন হবে কি-না সন্দেহ হয়। মধুপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের পুনর্বিন্যাস বিষয়ে আমার জানা নেই। গেজেট প্রকাশের কথাও তিনি জানেন না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস ইউনিয়ন পুনর্বিন্যাসের গেজেট প্রকাশের কথা জানিয়ে বলেন, উপর থেকে নির্দেশনা না আসার আগ পর্যন্ত ওয়েবসাইটে ৬টি ইউনিয়নই থাকবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ৮৭৫টি নতুন ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হচ্ছে। মধুপুরের নতুন ইউনিয়ন ভবন স্থাপনের চাহিদা চাওয়া হয়েছে।