গরমে ত্রাহি অবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৬-০৪-৩০ ১১:৪৭
গত ৬ই এপ্রিল থেকে শুরু করে একটানা ২৪ দিন প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে। পুরো মাসজুড়েই স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কখনও এটা স্বাভাবিকের চেয়ে ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি পর্যন্তও বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন এ বছরের এপ্রিল একটি ব্যতিক্রমী মাস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, প্রতি বছর এপ্রিলে সাধারণত এক থেকে দুটি তাপপ্রবাহ থাকে, যা সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার এটি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বেড়েছে রোগব্যাধী। আবহাওয়া অফিস বলছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এর আগে ১৯৯৫, ১৯৯৯, ২০০৯ ও ২০০৭ সালে দাবদাহ হয়েছিল। ৯৫ এর দাবদাহ ঘুরে ফিরে দেশের ১২টি জেলায় মোট আট দিন ছিল। এরপর ২০০৭ সালে সাতটি জেলায়, ১৯৯৯ ও ২০০৯ সালে ছয়টি জেলায় পাঁচ থেকে ছয় দিন দাবদাহ বয়ে গেয়েছিল। কিন্তু টানা ২৪ দিন একাধারে দাবদাহ চলতে দেখা যায়নি কখনও। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়- বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, এবছর শক্তিশালী এল নিনো চলছে। এর প্রভাবে আফ্রিকা থেকে শুরু হয়ে পূর্ব এশিয়া হয়ে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার প্রভাবে বাংলাদেশেও প্রচণ্ড দাবদাহ চলছে। আবার এই এল নিনো শেষ হলে শুরু হবে লা নিনো। তখন আবার বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস মানবজমিনকে বলেন, তাপমাত্রা আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই ঢাকায় বৃষ্টি হবে। আর বৃষ্টি শুরু হলে তাপমাত্রাও কমে যাবে। চলতি মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এপ্রিলে দু-একটি দাবদাহ হতে পারে। এ মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে। বঙ্গোপসাগরে কমপক্ষে দু-একটি নিম্নচাপ হবে। এমনকি তিন-চারটি কালবৈশাখী হতে পারে। তবে সেই পূর্বাভাস মোটেও সত্য হয়নি। দু-একটি দাবদাহের পরিবর্তে একটানা ২৪ দিন দাবদাহ চলছে। চলতি মাসও শেষ হবে আজ। অতএব এপ্রিলের পূর্বাভাস কোনো কাজে আসেনি। গত ৩০ বছরের তাপমাত্রা আর বৃষ্টিপাতের হিসাবে এপ্রিল ছিল অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক।
এদিকে তাপপ্রবাহের কারণে রাজধানীর কর্মজীবী মানুষরাও পড়েছেন বিপাকে। দিনের অস্বাভাবিক তাপমাত্রায় দুপুরের দিকে অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যায় ঢাকার ব্যস্ত রাজপথ। পারতপক্ষে জরুরি কাজ ছাড়া কেউ ভরদুপুরে বাসা বা অফিস থেকে বের হচ্ছে না। গরমের কারণে শ্রমজীবী মানুষেরও কষ্ট বেড়েছে। বেড়েছে রোগব্যাধি। পানি শূন্যতার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে হাসপাতালে। রাজধানীর আইসিডিডিআরবি’তে দিনে প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ে রোগীর এ হার অনেক কম থাকে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা দাবদাহে রোদ এড়িয়ে চলা এবং পরিষ্কার পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন।