শমসেরনগরে স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর অনশন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

বাংলারজমিন ২০ অক্টোবর ২০১৯, রোববার

কমলগঞ্জে শ্বশুরবাড়ির পরিবারের দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় বিয়ের পরও স্বামীর ঘরে উঠতে পারেননি রোজিনা আক্তার নামের এক নববধূ। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় বিয়ের দেড় মাস পরও পুত্রবধূ হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে স্বীকৃতিও মিলেনি তার। তাই শ্বশুরবাড়িতে পুত্রবধূর স্বীকৃতির দাবিতে এখন স্বামীর বাড়িতে অনশন করছে রোজিনা নামের নববধূ। স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করে অনশন করায় ক্ষুব্ধ শ্বশুরবাড়ির লোকজন কয়েক দফা তাকে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নববধূ রোজিনাকে নির্যাতন করা হলেও রহস্যজনক কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি নীরব ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের কেচুলুটি গ্রামের দরাছত মিয়ার বড় ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী (৪০) গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন একই ইউনিয়নের বড়চেগ গ্রামের আ. রউফের কন্যা রোজিনা আক্তারকে (২৫)। বিয়ের পর সাবেক ইউপি সদস্য আবু বক্কর তার স্ত্রী রোজিনাকে নিজ বাড়িতে না তুলে শ্বশুরবাড়িতে (রোজিনার বাড়িতে) রেখে যান। এবং স্বামী আবু বক্কর নিয়মিত স্ত্রীর রোজিনার সঙ্গে রাত্রী যাপন করতেন।
রোজিনা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলে বিভিন্ন কৌশলে নিজ বাড়িতে তুলে নিতে রাজি হতেন না তার স্বামী আবু বক্কর। এক পর্যায় বিয়ের মাস খানেকের মাথায় টাকার জন্য রোজিনাকে চাপ দেন তার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক। এর কয়েক দিন পর রোজিনা স্বামী আবু বক্কর ও দেবর মোহাম্মদ মুন্না মিয়া মিলে যৌতুক হিসাবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। নববধূ রোজিনা আক্তারের ভাষ্য মতে, তাদের দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা দিতে পারলেই পুত্রবধূর স্বীকৃতি দিয়ে তাকে শ্বশুরবাড়ি তোলা হবে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারলে তাকে শ্বশুরবাড়ি উঠতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দেয় দেবর মুন্না। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের কন্যা রোজিনার পক্ষে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির আবদার রাখতে না পারায় তাকে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। শুক্রবার রোজিনা তার স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে উঠলে তাকে পুত্রবধূর স্বীকৃতি না দেয়ায় সে বসতঘরের দরজায় অবস্থান নেয়। এবং এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানায় স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিক ও দেবর মোহাম্মদ মুন্না মিয়ার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়। রোজিনা আক্তার বলেন, বিয়ের পূর্ব থেকেই স্বামী আবু বক্কর সিদ্দিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবু বক্কর সিদ্দিক বিভিন্ন সুযোগে তাকে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করে। এক পর্যায়ে রোজিনা আক্তার বিয়ের পূর্বে গর্ভবতী হলে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করায় গত ৪ঠা অক্টোবর। তারা একে অপরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু বিয়ের দেড় মাস অতিবাহিত হলেও শ্বশুরবাড়ি যাওয়া হয়নি নববধূ রোজিনা আক্তারের। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রথমবারের মতো শ্বশুরবাড়ি উঠতে চাইলে তাকে ঘরের ভিতরে ঢুকতে না দিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এর প্রতিবাদে নববধূ রোজিনা আক্তার পুত্রবধূর স্বীকৃতির দাবিতে শ্বশুরবাড়ির দরজায় বসে পড়েন। শ্বশুরবাড়িতে পুত্রবধূর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে অনশন শুরু করে রোজিনা। এ বিষয়ে শমশেরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুয়েল আহম্মদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু উভয়পক্ষ সালিশ না মানায় আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উভয়পক্ষকে আইনের মাধ্যমে সমাধানের জন্য অবহিত করি। লিখিত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির সাব ইন্সপেক্টর মো. আনজির হোসেন বলেন, বিষয়টি সরেজমিন তদন্তক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।



আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন -এর সর্বাধিক পঠিত