নারায়ণগঞ্জ চেম্বার সভাপতি কাজলের বিরুদ্ধে প্রকৌশলীর জিডি
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর (রবিবার), ২০১৯ Archive 2018Source: স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে
টেলিফোনে নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসাইনকে হুমকি দেয়ার অভিযোগে নাারয়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ফতুল্লা মডেল থানায় জাকির হোসেন বাদী হয়ে সাধারণ ডায়েরিটি দায়ের করেন। জিডির কপি তিনি ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারকে প্রদান করা হয়েছে। খালেদ হায়দার খান কাজল নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতির পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দফা হুমকির পর থেকে জাকির হোসাইন পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। হুমকিদাতারা যে কোনো সময় তার ও পরিবারের ক্ষতি করতে পারে। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজলের সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, আমি নিজে ওপেন হার্টের রোগী। আমার পক্ষে উচ্চবাচ্য করা সম্ভব নয়। তবে যেহেতু বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়িয়েছে তাই এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। শুধু এটুকু বলবো, পুলিশের তদন্তেই প্রকৃত বিষয়টি উঠে আসবে এবং প্রমাণিত হবে প্রকৌশলী জাকির হোসেন একজন বাজে প্রকৃতির লোক এবং ঘুষখোর। তার আগের কর্মস্থলে খোঁজ নিলেই আপনারা তার সম্পর্কে জানতে পারবেন। অসৎ কোনো উদ্দেশ্য সাধন করতেই তার এই হীন প্রচেষ্টা। জিডিতে প্রকৌশলী জাকির হোসাইন উল্লেখ করেন, ফতুল্লার আলীগঞ্জে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮টি ১৫তলা ভবনের ৬৭২টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করলে প্রকল্পটি কাজ পায় ঢাকার নয়া পল্টন এলাকার বাসিন্দা এটিএম রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন রফিক কনস্ট্রাকশন কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। ইতিমধ্যে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে এনওএ প্রদান করা হয়েছে এবং চুক্তি সম্পাদনের জন্য স্ট্যাম্পও প্রিন্ট করা হয়। গত বুধবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানের অলিখিত প্রতিনিধি হিসেবে স্ট্যাম্পটি নিতে খালেদ হায়দার খান কাজল গণপূর্ত কার্যালয়ে আসেন। আমি তখন ঢাকায় থাকাতে তিনি মোবাইল ফোনে কল করে আমাকে স্ট্যাম্প দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তখন আমি শর্ত মোতাবেক এই প্রকল্পের দরপত্র পাওয়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও তার সাক্ষীসহ অফিসে আসার কথা বললে তিনি ক্ষেপে যান। খালেদ হায়দার খান কাজল উত্তেজিত হয়ে আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন। আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তুই কখন অফিসে আসবি, আসার সঙ্গে সঙ্গে তোকে মেরে ফেলবো।’ ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন বলেন, নাারয়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বাদী হয়ে একটি জিডি করেছেন। আমরা সেই জিডি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।