আইপি ক্যামেরার আওতায় আসছে সিলেট মহানগর। ‘ডিজিটাল সিটি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট নগরীতে বসানো হচ্ছে এই ক্যামেরা। এরই মধ্যে কয়েকটি ক্যামেরা বসানোর কাজ হয়েছে। বাকিগুলো বসানোর কাজ চলছে। এই ক্যামেরার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তালিকাভুক্ত পলাতক অপরাধীদের দেখা মাত্রই সিগন্যাল দেবে এই ক্যামেরা। এ কারণে খুব সহজেই অপরাধী এবং তার অবস্থান চিহ্নিত করা যাবে। বৃহস্পতিবার রাতে ডিজিটাল সিলেট সিটি প্রকল্পের আওতায় আইপি ক্যামেরার কাজ পরিদর্শন করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানায় অবস্থিত কন্ট্রোল রুমে গিয়ে তা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি নগরবাসীকে নিরাপদ রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে আরো সক্রিয় হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা প্রশাসক এম. কাজী এমদাদুল ইসলাম, ডিসি হেডকোয়ার্টার কামরুজ্জামান, এডিসি বিভূতি ভূষণ, সুদ্বীপ, ডিসি (ট্রাফিক) ফয়ছল মাহমুদ, কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম মিয়া, প্রজেক্টর পিডি মহিদুর রহমান প্রমুখ। এদিকে আইপি ক্যামেরার মনিটরিং কক্ষ পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক জানান, সরকার দেশকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন করতে কাজ করে যাচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশ অনেক উন্নত হয়েছে। তাই ছিনতাই, চুরি, রাহাজানি, খুন এসব অপরাধ বন্ধ করতে সরকার ডিজিটাল সিটি প্রকল্পের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে অপরাধ কমে আসবে, সাধারণ নাগরিক আরো সুন্দর ও নিরাপত্তা নিয়ে জীবন যাপন করতে পারবে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এবং সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সমন্বিত উদ্যোগে সিলেট নগরীতে ১১০টি আইপি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। এতে প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানিয়েছেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের আনাগোনা চিহ্নিতকরণ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে এসব ক্যামেরা সাহায্য করবে।
১১০টি আইপি ক্যামেরার মধ্যে কিছু সংখ্যক বসানো হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বসানোর কাজ চলছে। এগুলোর মাধ্যমে প্রায় পুরো নগরীই কাভার দেয়া সম্ভব। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, কোর্টপয়েন্ট, ক্বীনব্রিজের মুখ, কদমতলি, হুমায়ুন রশীদ চত্বর, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর, সুবিদবাজার, আম্বরখানা, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকা, শাহপরাণ (রহ.) মাজার এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় আইপি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। নগরীতে যেসব আইপি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে সেগুলোর শক্তিশালী সার্ভার রয়েছে। এই সার্ভারে সিলেট মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধীদের ছবি ও তথ্য থাকবে। নগরীর কোথাও আইপি ক্যামেরায় ওই অপরাধীর চলাফেরা ধরা পড়লে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে সিগন্যাল বেজে ওঠবে। তখন পুলিশ ওই অপরাধীকে গ্রেপ্তারে পদক্ষেপ নিতে পারবে। পুলিশ চাইলে যেকোনো অপরাধীর ছবি দিয়ে আইপি ক্যামেরার সার্ভারে অনুসন্ধান (সার্চ) করতে পারবে। ওই অপরাধী যদি আইপি ক্যামেরার আওতাভুক্ত কোনো এলাকায় চলাফেরা করেন, তবে সার্ভার তা শনাক্ত করে জানিয়ে দেবে। আইপি ক্যামেরার ‘অটো নাম্বার প্লেট রিকগনিশন’ ফিচারের মাধ্যমে যেকোনো যানবাহনের গতিবিধিও পর্যবেক্ষণ করতে পারবে পুলিশ। এক্ষেত্রে অপরাধে জড়িত কোনো যানবাহনের নাম্বার দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নগরীতে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হবে। গ্লোবাল ট্রেড করপোরেশনের সিও কর্মকর্তা মছনুল করিম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ১১টি ক্যামেরা বসানো হয়ে গেছে। ফাইবার ক্যাবলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে আইপি ক্যামেরাগুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
