তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেছেন, এমনি এমনি কেউ দেশ ত্যাগ করে না। যখন তার জীবন ও সম্পদের ওপর হুমকির সৃষ্টি হয় তখন সে দেশ ত্যাগ করে। সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার হারিয়ে এদেশের অনেক সংখ্যালঘু বিদেশ চলে গেছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সাঁওতাল জাতিগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি নিহত ও আরও অনেকে আহত হন। সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই ঘটনার বিচার ও জমিজমা ফেরত পাওয়ার দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ এখনও তাদের জীবনের ওপর হুমকি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, হত্যাকান্ডের ঘটনার দুই বছর পার হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। এ ঘটনার বিচার হচ্ছে না কেন। এত দিন ধরে এটি জিইয়ে রাখার কি আছে? ভুক্তভোগীরা দরিদ্র, অসহায় বলে এমন হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশে এমন হওয়ার কথা ছিল না। সাঁওতালদের এলাকায় সরকারের স্থানীয় দায়িত্বপ্রাপ্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তারা কি চান এসব মানুষ দেশ ত্যাগ করে চলে যাক। আর না চাইলে তার প্রমাণ তো দিতে হবে। যেটা আমরা পাচ্ছি না।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, রংপুর চিনিকল স্থাপনের জন্য আখ চাষ করতে ১৯৬২ সালে বাগদা ফার্ম এলাকার ১ হাজার ৮৪০ একর জমি রিকুইজিশন করা হয়। এসব ছিল স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙ্গালিদের ভোগদলীয় সম্পত্তি। চুক্তি অনুযায়ী যে কাজের (আখ চাষ) জন্য জমি রিকুইজেশন করা হয়েছে। তা না হলে আখের মালিকদের জমি ক্ষতিপূরণসহ দিতে হবে। তিনি বলেন, ২০০৪ সালে রংপুর চিনিকল বন্ধ হয়। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাষাবাধ শুরু করেন। জমি ফেরত পেতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা আন্দোলন শুরু করলে মিথ্যা মামলা করা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর পুলিশ, প্রশাসন স্থানীয় সন্ত্রাসীরা উচ্ছেদের নামে হামলা করে। ওই ঘটনার পর হাইকোর্ট দুটি মামলা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেন। কিন্তু আড়াই বছরে তদন্তের কাজ শেষ হয়নি।
