তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে মমতা বললেন, ২২৬ আসনে জিতব

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রেই লড়াই করবেন। এই আসনে বিজেপি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করিয়েছে। তবে শুভেন্দু তার জয়ী আসন নন্দঅগ্রামেও লড়াই করছেন। তবে নন্দীগ্রাম আসনে তৃণমূল কংগ্রেস শুভেন্দুর দীর্ঘ দিনের সঙ্গী পবিত্র করকে প্রার্থী করে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে চেয়েছে। পবিত্র কর মঙ্গলবার সকালেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পদকের কাছ থেকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে নিয়েছেন। আর তার কয়েকঘন্টা পরেই তাকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯১টি আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালিঘাটের বাড়ি থেকে। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতন্ত্রী মোর্চার সঙ্গে সমঝোতার অংশ হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস দার্জিলিংয়ের তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না। অন্য দলগুলির মত দফায় দফায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করে মঙ্গলবার বিকেলে একসঙ্গে সব প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বলেন, এটি বাংলার অস্তিত্বের লড়াই। বাংলা এবং তার মা, মাটি, মানুষ জিতবে। দিল্লির লাড্ডু জিতবে না। আপনারা আমাদের সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছেন, কিন্তু আমাদের জনশক্তি কেড়ে নিতে পারবেন না। মনে রাখবেন, মানুষই ভোট দেয়।

তৃণমূল নেত্রী ঘোষণা করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২২৬টি আসন জিতবে, যা ২০২১ সালের ২১৫ আসনের চেয়ে ১১টি বেশি। তিনি বলেন, আমি বিজেপিকে বলছি, আপনারা এত ভয় পাচ্ছেন কেন? এজেন্সির অপব্যবহার না করে এবং বাইরে থেকে লোক না এনে, আসুন আমরা রাজনৈতিকভাবে লড়াই করি।

মুখ্যমন্ত্রী দলের সেইসব নেতা ও কর্মীদের আশ্বস্ত করেছেন যারা প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি। তিনি বলেন, প্রার্থী তালিকায় যারা জায়গা পাননি, তাদের সবাইকে সংগঠনে জায়গা দেওয়া হবে। জোটবদ্ধভাবে দলবদ্ধভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় নতুন করে কোনও অভিনেতা অভিনেত্রী বা গায়ককে জায়গা দেওয়া হয়নি। বরং কাঞ্চন মল্লিককে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় অনেক নতুন মুখকে জায়গা দিয়ে নবীণ ও প্রবীণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। দলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এবং দলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য, তন্ময় ঘোষ, শ্রেয়া পান্ডের মত প্রার্থীরা তালিকায় রয়েছেন। তবে কিছুদিন আগেই সিপিআইএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে হৈ চৈ ফেলে দেওয়া তরূণ তুর্কি নেতা প্রতিকুর রহমানকে প্রার্থী করা হয় নি।

দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তরাও টিকিট পেয়েছেন। যেমন রেশন দুর্নীতি মামলায় যুক্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে টিকিট দেওয়া হয়েছে। আবার স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) মামলায় চাকরিচ্যুত অঙ্কিতা অধিকারীর বাবা পরেশচন্দ্র অধিকারীকেও প্রার্থী করা হয়েছে। তবে এসএসসি দুর্ণীতিতে যুক্ত মানিক ভট্টাচার্য্চকে এবার প্রার্থী করা হয় নি।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন ৪৭ জন সংখ্যালঘু প্রার্থী। ৩১ বছরের নীচে রয়েছেন চারজন প্রার্থী। ৩১-৪০ বছরের মধ্যে ৩৮ জন, ৪১-৫০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৮৮ জন প্রার্থী । ৮৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ৫১-৬০ বছরের মধ্যে। ৬১-৭০ বছরের মধ্যে রয়েছেন ৪৭ জন । ৭১-৮০ বছরের মধ্যে প্রার্থীর সংখ্যা ২৩ জন। ৮১-৯০ বছরের মধ্যে দু'জন প্রার্থী রয়েছেন। আর নারী প্রার্থী রয়েছেন ৫২ জন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন