মাইকেল ক্যারিক অন্তর্বর্তী কোচ হয়ে আসার পর আমূল পরিবর্তন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। রোববার অ্যাস্টন ভিলার মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফেরে রেড ডেভিলরা। এদিন ইউনাইটেডের জার্সিতে ১০০ অ্যাসিস্টের মাইলফলক স্পর্শ করেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ক্লাবটির কিংবদন্তি ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যামের দুই যুগের বেশি সময়ের একটি রেকর্ডও এদিন নিজের করে নেন এ পর্তুগিজ তারকা।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে এক মৌসুমে রেড ডেভিলদের হয়ে এখন সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করা ফুটবলার ফার্নান্দেজ। ভিলার বিপক্ষে জোড়া অ্যাসিস্ট করে চলতি মৌসুমে তার মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়ালো ২৭ ম্যাচে ১৬টিতে। তাতে ভেঙে যায় ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে বেকহ্যামের করা ১৫ অ্যাসিস্টের রেকর্ড। শিরোপার দৌড় থেকে অনেকটা দূরে থাকলেও, এদিনের জয়ে নিজেদের কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছে গেছে ইউনাইটেড। ৩০ ম্যাচে ১৫ জয়, ৯ ড্র ও ৬ হারে ৫৪ পয়েন্টে তালিকার তিনে উঠে এসেছে ক্যারিক শিষ্যরা। শেষ পর্যন্ত শীর্ষ চারে থেকে মৌসুম শেষ করতে পারলে সামনের বার পুনরায় চ্যাম্পিয়নস লীগে দেখা যাবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের। ম্যাচ শেষে একই কথা শোনা গেল ফার্নান্দেজের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘আমি অনেক খুশি, কারণ সতীর্থদের সহায়তা করেই এই (১০০ অ্যাসিস্ট) মাইলফলক স্পর্শ করেছি। অন্যদের আনন্দ দিতে পারায় আরও বেশি আনন্দ কাজ করে। তাদের গোল করতে এবং খুশি হতে সাহায্য করতে পারায় আমি অনেক বেশি খুশি। এটি আমার জন্য অনেক বড় অর্জন। তবে মৌসুম শেষে পয়েন্ট টেবিলের উপরে (চারে) থাকাটাই হবে আসল অর্জন।’
এদিকে, দলের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করলেও, এখনই সর্বোচ্চ খুশি হতে চাইছেন না ক্যারিক। রেড ডেভিলদের অন্তর্বর্তী কোচ বলেন, ‘আমরা এই জয় উদযাপন করতে পারি। আমরা বর্তমানে একটি ভালো অবস্থানে আছি, তবে এখনও অনেক পথ চলা বাকি। জয়ের ধারা বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
স্পার্সের নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে লিভারপুলের পয়েন্ট বিসর্জন
রাতের হাইভোল্টেজ ম্যাচে টটেনহ্যাম হটস্পার্সের বিপক্ষে ঘরের মাঠে শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হয় লিভারপুলকে। অ্যানফিল্ডে প্রথমে গোল হজমের পর ৯০তম মিনিটে সমতাসূচক গোলটি করেন রিচার্লিসন। এই ড্রয়ের ফলে শিরোপার দৌড়ে বড়সড় ধাক্কা খেল অলরেডরা।
চলতি মৌসুমে ৯০ মিনিট পর এ নিয়ে আটটি গোল হজম করলো লিভারপুল। ম্যাচের অষ্টাদশ মিনিটে ডমিনিক সোবোসলাই ৩০ গজ দূর থেকে নেয়া ফ্রি কিকে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। চলতি মৌসুমে হাঙ্গেরিয়ান তারকার চতুর্থ ফ্রি-কিক গোল এটি। ম্যাচ যখন শেষের পথে, ঠিক তখনই অ্যানফিল্ডকে স্তব্ধ করে দেন রিচার্লিসন। কোলো মুয়ানির পাস থেকে জালে বল জড়ান এ সেলেসাও তারকা।
স্পার্সের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ইগর টুডোর তার প্রথম পয়েন্ট পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দলের এই লড়াকু মানসিকতায় আমি গর্বিত। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ছেলেরা হাল ছাড়েনি। এটি শুধুমাত্র একটি পয়েন্ট নয়, বরং আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা। অ্যানফিল্ডের মতো কঠিন মাঠে গোল হজম করার পর ফিরে আসাটা বিশেষ কিছু।’
