তেলের দাম বাড়ছেই

সহায়তা চাওয়া কী ট্রাম্পের দুর্বলতা!

তেলের দাম বাড়ছেই

ফন্ট সাইজ:

হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার মানে কি এই যে, এক আইআরজিসির কাছ থেকে এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। আর এ জন্যই তারা মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছে! মিত্র জোটের কাছে এমন সহায়তা চাওয়াকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলিদের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। ফলে তেলের দাম ক্রমেই বেড়ে চলছে। ব্রেন্ট ক্রুড বিশ্বব্যাপী মূল্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। রোববার এটা ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ ডলার ছাড়ায়। এরপর সোমবার সকালে কিছুটা কমেছে। সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ১০৪.১৫ ডলার প্রতি ব্যারেল, যা ১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করছে। হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবে এ পর্যন্ত খুব কম প্রতিক্রিয়া এসেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছেন, তার সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্প যেসব দেশের নাম উল্লেখ করে ওই আহ্বান জানিয়েছেন তার মধ্যে আছে চীন, জাপান, ফ্রান্স এবং বৃটেন সহ আরও কিছু দেশ। তবে তারা কেউ প্রকাশ্যে তাদের নৌবাহিনী পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। রোববার দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যদি আমার প্রস্তাবের কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে, বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে, তবে ন্যাটোর ভবিষ্যত খুবই খারাপ হবে।

মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এটিকে ইতিহাসে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত বলে উল্লেখ করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। বৃটেনের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস কেন্দ্র জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সর্বাধিক পাঁচটি জাহাজই প্রণালির মাধ্যমে পার পেয়েছে, যা ঐতিহাসিক গড় দৈনিক ১৩৮টির তুলনায় অনেক কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে কমপক্ষে ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ আঞ্চলিক হামলার শিকার হয়েছে। ট্রাম্প বারবার বলেছেন, প্রয়োজনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে প্রণালির মাধ্যমে এস্কর্ট করার জন্য। ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হবে না যতক্ষণ না তেহরানের সামরিক ক্ষমতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তারা আশা করছেন যে এই অপারেশন শীঘ্রই শুরু হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন