মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। তারা ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেছে, সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠান। বার বার যে দাবি করেছেন যে ইরানের নৌবাহিনী মৌলিকভাবে ধ্বংস হয়েছে, তার প্রমাণ দিন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আরটি।
এতে আরও বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করেছেন যে, যদি তারা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে, তবে তাদের ‘ভীষণ খারাপ ভবিষ্যত’ অপেক্ষা করছে। তবে তেহরান জোর দিয়ে বলেছে, ‘শত্রুতাপূর্ণ’ দেশগুলো বাদে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সকলের জন্য খোলা আছে। ট্রাম্প সপ্তাহান্তে আবারও বলেছেন, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল গ্রহণকারী দেশগুলোকে একে নিরাপদ রাখতে হবে।
বৃটেন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং এমনকি চীনকেও ‘একটি দলগত প্রচেষ্টায়’ যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেন, যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে বা যদি প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হয়, আমি মনে করি এটি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে। তিনি আরও বলেছেন, ইরানের খার্গ দ্বীপ ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস’ হয়েছে। আমরা হয়তো আরও কিছু হামলা করব মজার জন্য। এর জবাবে আইআরজিসি ট্রাম্পকে সাহস দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে। বলেছে, সাহস থাকলে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ পাঠান। আইআরজিসি’র মুখপাত্র বলেছেন- ট্রাম্প কি বলেননি যে ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে? যদি তাই হয়, তবে যদি সাহস থাকে, তাকে তার জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে পাঠাতে হবে।
ওদিকে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী প্রতিবেদন দিয়েছে যে, লেবাননে সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে সামনে রেখে সরকার অনুমোদন চাইছে ৪,৫০,০০০ পর্যন্ত রিজার্ভ সেনা মোতায়েনের জন্য। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি যুদ্ধ ইরানের সঙ্গে ১৭তম দিনে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যেই লেবাননে যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা করে যাচ্ছে ইসরাইল। তারা লেবাননকে দখলও করে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট বলেন, ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকে ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছে। ওদিকে, ব্রেন্ট ক্রুড সোমবার প্রায় ১০৬ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত বেড়েছে।
ট্রাম্প তার মিত্রদের কাছে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করার আহ্বানে বলেছেন, ‘এটি আমরা চাইছি না, এই দেশগুলো চাইছে। আমার মনে হয় অন্য দেশগুলো আসা ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের দেরিতে দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানোর প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ জিতলে আমি তাদের চাই না। যুদ্ধ শুরু করার আগে চাই। সাপোর্ট পাই বা না পাই, আমি এটা বলতে পারি এবং আমি তাদের বলেছি: আমরা মনে রাখব।
