পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

শেষ ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে এ রান ডিফেন্ড করতে আসেন রিশাদ হোসেন। আগের ৬ ওভারে ৫৪ রান খরচ করা এ স্পিনার ইনিংসের শেষ ওভারে সেরাটা দিলেন। আগের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমানকে দুটি ছক্কা মেরে জয়ের সম্ভাবণা জিইয়ে রাখা শাহিন শাহ আফ্রিদি রিশাদকে খেলতেই পারলেন না। চাপের মুখে মাত্র ২ রান খরচ করেন রিশাদ। আর বাংলাদেশ ম্যাচটা জিতে নিলো ১১ রানে। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটা ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিলো টাইগাররা। এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। এর আগে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে এই পাকিস্তানকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।

২৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে প্রথম ওভারে দলীয় ৬ রানের মাথায় উইকেট হারায় পাকিস্তান। বল হাতে নিয়ে ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। দ্বিতীয় ওভারে উইকেটের খাতায় নাম তোলেন প্রথম ওয়ানডের নায়ক নাহিদ রানা। ডানহাতি পেসার শট বল পুল করতে গিয়ে লিটনের হাতে তালবন্দি হন মাজ সাদাকাত। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৭৫ রান করেছিলেন তিনি। তৃতীয় ওভারে পাকিস্তানের ইনিংসে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার ডানহাতি পেসারের শিকার মোহাম্মদ রিজওয়ান। বোল্ড হওয়ার আগে ৪ বলে ৪ রান করেন তিনি। ১৭ রানে তিন উইকেট হারায় পাকিস্তান। ১০ ওভারে ৪৩ রান তুলে সফরকারীরা। চতুর্থ উইকেটে গাজি ঘোরিকে নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়েন আব্দুল সামাদ। দলীয় ৬৭ রানের মাথায় ঘোরিকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন নাহিদ। ১৮তম ওভারে আব্দুল সামাদও সাজঘরে ফিরেন। ব্যক্তিগত ৩৪ রানে ডানহাতি এ ব্যাটারকে আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৮২ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ষষ্ঠ উইকেট ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা। চাপের মুখে সাদ মাসুদকে নিয়ে ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি গড়েন। সাদ ৩৮ রানে ফিরে গেলেও অপর প্রান্তে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রাখেন আগা। ২ ছক্কা ও ৪ চারে ৬০ বলে অর্ধশতক তুলে নেন তিনি। দলীয় ২০৯ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ২০ বলে ৯ রান করা ফাহিম আশরাফকে ফিরিয়ে টাইগারদের ম্যাচে ফেরান। তখনো জয়ের জন্য পাকিস্তানকে বড় পথ পাড়ি দিতে হতো। আর সেই কাজটা অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদিকে নিয়ে প্রায় করে ফেলেছিলেন সালমান আলী আগা। ৮৯ বলে শতক তুলে নেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ১০৬ রানের মাথায় আগাকে ফিরিয়ে টাইগারদের জয়ের সম্ভাবণা উজ্জ্বল করেন তাসকিন। এরপরও ম্যাচে ছিল পাকিস্তান। তবে স্বাগতিক সমর্থকদের চমকে দিয়ে ম্যাচটা জিতে নিতে পারেনি সফরকারীরা। বাংলাদেশের হয়ে ১০ ওভারে ৪৯ রানে ৪ উইকেট নেন তাসকিন।
এর আগে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। নতুন বলে দুজনে মিলে পাকিস্তানি বোলারদের পরীক্ষা নেন। ১৯তম ওভারে টাইগারদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গে। ৫৫ বলে ৩৬ রান করে পাক পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বিদায় নেন সাইফ। তবে অপর ওপেনার তামিম আক্রমণাত্মক খেলা চালিয়ে যান। চার ও ছক্কার পসরা সাজিয়ে ৪৭ বলে অর্ধশতক তুলে নেন। পরে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকে পৌঁছান। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ক্রিজে থিতু হতে পারেননি। হারিস রউফের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। ৩৭তম ওভারে তামিমকে ফেরান লেগ স্পিনার আবরার আহমেদ। ১০৭ বলে ১০৭ রান করে বিদায় নেন তামিম। ১৯৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর লিটন কুমার দাসের ৪১ ও তাওহীদ হৃদয়ের ৪৮ রানের ইনিংসে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ২৯০ রান তুলে টাইগাররা। শেষ ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৭৭ রান করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের হয়ে ৫২ রানে তিন উইকেট শিকার করেন পেসার হারিস রউফ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন