অনেক আগে থেকেই চাচ্ছিলেন দলীয় মনোনয়ন। জেলা বিএনপি’র সভাপতি, কেন্দ্রীয় সদস্য দুটোরই দায়িত্ব পালন করেছেন। বলতে গেলে সিলেটে বিএনপি’র সিনিয়র যে ক’জন নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে আবুল কাহের চৌধুরী শামীম একজন। পড়ন্ত বেলা এখন তার। সব আশা যেন মিইয়ে গিয়েছিল। কিন্তু না, শেষ বেলায় এসে মূল্যায়িত হলেন তিনি। আর এতে খুশি নিজেও। মুখে হাসি ফুটেছে তার। শুধু যেন কাহের শামীম তা নয়, সিলেট বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মুখে হাসিও। সিদ্ধান্ত যৌক্তিক। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সিলেটের নেতাকর্মীরা।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন সিলেট জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আবুল কাহের চৌধুরী শামীম। তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা তার। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার নিয়ে তার রাজনীতির সব স্বপ্ন। এলাকার মানুষের সঙ্গে হাঁটছেন প্রায় আড়াই যুগের বেশি সময় ধরে। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। বড় শোডাউনের পরিবর্তে তিনি তৃণমূল হাঁটেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে তারেক রহমানের ৩১ দফা কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ করেন। এতে মিলে ব্যাপক সাড়া।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার ওপর ভোটাররা আস্থা রাখেন। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার আগে কাহের শামীমের ইউনিয়ন পর্যায়ে সভা রূপ নিয়েছিল সমাবেশে। তা দেখে বিএনপি’র নেতাকর্মীরাই হতবাক হন। কাহের শামীমের প্রতি মানুষের কেন টান? এ প্রশ্নের জবাব ওই সময় কাহের শামীম দিয়েছিলেন। বলেছিলেন- বিএনপি’র একজন কর্মী হিসেবে আমি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি। সুখে-দুঃখে পাশে ছিলাম। তার কথার সত্যতাও মিললো। বন্যা, খরা কিংবা করোনা সব কিছুইতেই কাহের শামীম জনগণের সঙ্গে ছিলেন।
সিলেটের রাজনীতিতে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকলেও এলাকার মানুষের সঙ্গে তিনি কখনোই সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। এ কারণে এবারের নির্বাচনে সব দলের মানুষের এক ধরনের সহানুভূতিও কাজ করে। তবে তিনি দলীয় মনোনয়ন পাননি। এতে কিছুটা দুঃখ পেলেও প্রকাশ করেননি। বরং তিনি দলের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে একাট্টা হয়ে কাজ করেন। গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও লড়াইয়ে পেরে উঠছিলেন না। তার সঙ্গের অনেক রাজনীতিকরা মারা গেছেন। যারা আছে তারা দৌড়ে অনেক এগিয়ে গেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে তার নাম উচ্চারিত হলেও তিনি কিছুই বলেননি। বরং নীরব থেকেছেন। অবশেষে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে দলের তরফ থেকে তাকে মনোনীত করা হয়েছে। গতকাল বিকালে যখন এ খবর সিলেটে পৌঁছে তখন আনন্দে আত্মহারা হন আবুল কাহের চৌধুরী। চোখে জল আসে তার। না চাইতেই যেন বৃষ্টি। শুকরিয়া জানান আল্লাহর কাছে। মানবজমিনকে জানালেন- দলের মূল্যায়নে আমি কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি। আমি এ ধরনের সুখবরের অপেক্ষায় ছিলাম না। এখন দল যেহেতু মূল্যায়ন করেছে চেষ্টা করবো সবটুকু উজাড় করে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে।
জনগণের জন্য আমরা রাজনীতি করি। চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। এখন যদি জনগণের জন্য একটু কাজ করতে পারি তাহলে শান্তি পাবো। দলের সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা জানান। কাহের শামীমের এই প্রাপ্তিতে সিলেটের দলীয় নেতাকর্মীরা খুশি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন অনেকেই। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী মানবজমিনকে জানিয়েছেন- আবুল কাহের চৌধুরী শামীম মূল্যায়িত হয়েছেন। এটা হচ্ছে আমাদের জন্য সুখবর। এটাই আমরা আশা করেছিলাম। যথার্থই হয়েছে। আমরা আশাকরি দলের কাছে মূল্যায়িত এ প্রবীণ নেতা ভবিষ্যতে জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবেন।
