ভারতে চার রাজ্যের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে ২৩ ও ২৯শে এপ্রিল গণনা ৪ঠা মে

ফন্ট সাইজ:

ভারতের নির্বাচন কমিশন রোববার বিকালে চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। রাজ্যগুলো হলো- পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, আসাম, কেরালা এবং পুদুচেরি। সংবাদ সম্মেলনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ তফসিল ঘোষণা করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট হবে দুই দফায়। ২৩শে এপ্রিল এবং ২৯শে এপ্রিল এই ভোট নেয়া হবে। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ভোট হয়েছিল আট দফায়। তবে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “কমিশন মনে করছে দফা কমানো প্রয়োজন। সকলের পক্ষে সুবিধাজনক এমন একটি পর্যায়ে এটি নামিয়ে আনা দরকার।” পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফা ভোটগ্রহণ হবে ১৫২টি আসনে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২ আসনে।

পশ্চিমবঙ্গ বাদে অন্য রাজ্যগুলোতে ভোট হবে এক দফায়। আসাম, কেরালা ও পুদুচেরিতে ভোট হবে ৯ই এপ্রিল এবং তামিলনাড়ুতে ভোট হবে ২৩শে এপ্রিল। সব রাজ্যের ভোট গণনা হবে ৪ঠা মে। এদিন থেকেই আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়েছে।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের সময়সূচি এবং পর্যায়ক্রমে ভোটগ্রহণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়েছে। ১৭ কোটি ৪০ লাখ ভোটার এই রাজ্যগুলোতে ভোট দেবেন বলে কমিশন জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে, সব ভোটকেন্দ্রের জন্য ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং ব্যবস্থা থাকবে। ভোটকেন্দ্রে মোবাইলফোন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, এই রাজ্যগুলোর বিধানসভার মেয়াদ মে এবং জুন মাসে বিভিন্ন তারিখে শেষ হচ্ছে। নির্বাচনী আইন অনুসারে, কমিশনকে তার আগে নির্বাচন পরিচালনা করতে হচ্ছে। এই রাজ্যগুলোতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন তথা এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে।

এসআইআর প্রসঙ্গে জ্ঞানেশ জানান, এর লক্ষ্য ছিল যাতে কোনো বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন। একই সঙ্গে যাতে কোনো অবৈধ ভোটার থেকে না যান, তা-ও নিশ্চিত করার জন্য এসআইআর করা হয়েছে। কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত ৬ কোটি ৪৪ লাখ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ২৮ লাখ। মহিলা ভোটার রয়েছেন ৩ কোটি ১৬ লাখ। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১,১৫২ জন। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে নতুন ভোটার (১৮-১৯ বছর বয়সী) রয়েছেন ৫ লাখ ২৩ হাজার জন। ২০-২৯ বছর বয়সী ভোটার রয়েছেন ১ কোটি ৩১ লাখ জন।

এ ছাড়া, এই রাজ্যগুলোর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের আটটি আসনে উপ-নির্বাচন হবে। গুজরাট, গোয়া, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ডের একটি করে আসনে এবং কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের দু’টি করে আসনে উপনির্বাচন হবে। এই আটটি আসনের উপনির্বাচনের দিনক্ষণও ঘোষণা করেছে কমিশন। গোয়া, কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরায় উপনির্বাচন হবে ৯ই এপ্রিল। গুজরাট এবং মহারাষ্ট্রে উপনির্বাচন হবে ২৩শে এপ্রিল। আট আসনেরও ভোট গণনা হবে ৪ঠা মে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফায় কোচবিহারের ৯টি আসন, আলিপুরদুয়ারের ৫টি আসন, জলপাইগুড়ির ৭টি আসন, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ৬টি আসন, উত্তর দিনাজপুরের ৯টি আসন, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬টি আসন, মালদহের ১২টি আসন, মুর্শিদাবাদের ২২টি আসন, পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসন, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের ১৯টি আসন, পুরুলিয়ার ৯টি আসন, বাঁকুড়ার ১২টি আসন, পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি আসন ও বীরভূমের ১১টি আসনে। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে নদীয়ার ১৭টি আসন, উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি আসন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩১টি আসন, কলকাতার ১১টি আসন, হাওড়ার ১৬টি আসন ও হুগলির ১৮টি আসনে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন