সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এর আগে গত ২০শে নভেম্বর আপিল বিভাগ এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন।
এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান আবার ফিরলো। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তা প্রয়োগ হতে পারে। প্রায় তিন দশক আগে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল। এসংক্রান্ত বিধান পুনরুজ্জীবিত করে রায় দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আইনজীবীরা বলছেন, এ রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনর্বহাল হলো। যাতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে।
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি প্রথম জোরালোভাবে ওঠে নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯৬ সালে বিভিন্ন দলের দাবির মুখে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত করা হয়। ওই বছরের ২৭শে মার্চ সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতির প্রবর্তন ঘটে। এই বিধান অনুযায়ী ১৯৯৬ সালে সপ্তম, ২০০১ সালে অষ্টম এবং ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব নির্বাচন নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ওঠেনি।
তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অগণতান্ত্রিক উল্লেখ করে আইনজীবী তিনজন হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে ২০০৪ সালের ৪ঠা আগস্ট হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সংবিধানসম্মত ও বৈধ ঘোষণা করেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট। ওই বছর রিট আবেদনকারীরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করেন। আপিল শুনানিতে আটজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবীর মতামত নেয়া হয়। তাদের অধিকাংশ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দেন। তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল এ ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন।
আপিলের শুনানি শেষে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে ২০১১ সালের ১০ই মে রায় দেন। রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তাই তা বাতিলযোগ্য। তবে তখন পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, প্রয়োজনের নিরিখে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হতে পারে। পরে ২০১২ সালের ১৬ই সেপ্টেম্বর ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হলে এ অংশটি বাদ পড়ায় তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এরপর সরকার সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপ করে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
স্টাফ রিপোর্টার
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
