২০২৬ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ পুরুষ ফুটবল দল। শনিবার গুলশানের একটি আবাসিক হোটেলে রিপোর্ট করেন ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলাররা। মার্ক কক্সের অধীনে এখন পুরোদমে অনুশীলনের পালা। এখন পর্যন্ত ক্যাম্পে ২৮ ফুটবলার যোগ দিয়েছেন। প্রাথমিক স্কোয়াডের বাকি সদস্যরা ধাপে ধাপে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। অনুশীলন পরিকল্পনা নিয়ে কক্স বলেন, ‘আমরা টেকনিক্যাল স্কিল, ট্যাকটিকস ও দলীয় বোঝাপড়া নিয়ে কাজ করবো। এ দেশের জলবায়ু ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে ফুটবলাররা প্রাকৃতিকভাবেই ফিট। তবে আমরা মনস্তাত্ত্বিক দিকেও জোর দেবো, যাতে জেতার মানসিকতা গড়ে ওঠে।’ সাত দিনের নিবিড় অনুশীলন শেষে আগামী ২১শে মার্চ মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হবে বাংলাদেশ দল। আগামী ২৩শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল পর্যন্ত মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গী ভারত ও পাকিস্তান। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দেয়া এক ভিডিও বার্তায় আইরিশ কোচ মার্ক কক্স দলের দায়িত্ব নিতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে প্রস্তাব দেয়া হয়, আমি বেশ সম্মানিত বোধ করি। অনেক বছর ধরেই আমি বাংলাদেশের ফুটবলের খোঁজ রাখি। এখানকার লীগ কাঠামো এবং লেস্টার সিটির হামজা চৌধুরী সম্পর্কেও আমি জানি। এই অনূর্ধ্ব-২০ দলে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর প্রতিভা রয়েছে। আগের কোচরাও দারুণ কাজ করেছেন।’ গত এক সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ ফুটবল লীগের ম্যাচ দেখেছে কক্স। সেই অভিজ্ঞতা বেশ ইতিবাচক। তিনি বলেন, ‘আমি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও পিডব্লিউডির ম্যাচ দেখেছি। আমাদের ফুটবলাররা শারীরিকভাবে ফিট এবং ট্যাকটিক্যালি বেশ সচেতন। এখন শুধু দরকার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়া, যাতে তারা বিশ্বমঞ্চে বুক চিতিয়ে লড়তে পারে।’ মাঠের পারফরম্যান্সে দলীয় প্রচেষ্টায় জোর দেবেন বাংলাদেশ কোচ। তিনি বলেন, ‘অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড়রা প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত এবং মানসিকভাবে শক্ত হতে হবে। আমি দেখতে চাই তারা দল হিসেবে কতটা একতাবদ্ধ এবং দেশের হয়ে লড়ার মানসিকতা তাদের কতটা প্রখর।’ নতুন কোচের অধীনে কাজ করতে মুখিয়ে আছেন ফুটবলাররা। মিডফিল্ডার ইব্রাহিম নেওয়াজ বলেন, ‘ক্যাম্পে যোগ দিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। দলের অনেকের সঙ্গে আগে খেলার অভিজ্ঞতা আছে, আমাদের বোঝাপড়া ভালো। নতুন কোচের অধীনে অনুশীলনের অপেক্ষায় আছি।’ ফরোয়ার্ড রিফাত কাজীর কণ্ঠেও ঝরলো আত্মবিশ্বাস, ‘কাল (আজ) থেকে আমাদের মূল অনুশীলন শুরু। আমাদের কোচ অনেক অভিজ্ঞ। আমরা কঠোর পরিশ্রম করে মালদ্বীপে ভালো ফল বয়ে আনতে চাই।’ কোচ হিসেবে মার্ক কক্সের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। যুক্তরাজ্যে ১০০০-এর বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ডাগআউটে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা আছে তার। কাজ করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, স্টোক সিটি ও উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সের মতো নামী ক্লাবে।
বাফুফে আশা করছে, কক্সের হাত ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাফল্যের পাশাপাশি দেশের ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি গড়ে উঠবে।
সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ
শিষ্যদের বড় স্বপ্ন দেখাচ্ছেন কক্স
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
