মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক এ মৌসুমে চৈতালী ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজ চলছে। গ্রামীণ সড়কগুলো এখন কৃষকের উঠানে পরিণত হয়েছে। এতে করে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। উপজেলার সঙ্গে জেলা শহরে যোগাযোগের প্রধান সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ পাকা সড়কে কৃষকরা ডাল, গম, ধনিয়া, ছোলা, রাই ও সরিষাসহ বিভিন্ন চৈতালী ফসল শুকানো ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যবহার করছেন। এতে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। রোববার সরজমিন উপজেলার বিনোদপুর, খালিয়া, বাবুখালী, গোপালনগর, ঘুল্লিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফসল ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। বাড়ির উঠান বা খোলা জায়গার অভাবে অনেক কৃষক বাড়ির পাশের সড়ককেই ফসল শুকানোর জায়গা হিসেবে ব্যবহার করছেন। ফলে রাস্তা দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার উপর ফসল ছড়িয়ে রাখার কারণে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। মহম্মদপুর-মাগুরা সড়ক, মহম্মদপুর-নহাটা সড়ক, বাবুখালী-মহম্মদপুর সড়ক, রাজাপুর-মহম্মদপুর ও বিনোদপুর-রাজাপুর সড়কসহ গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ সড়কই এখন ফসল মাড়াইয়ের স্থানে পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল আরোহী মো. হাফিজার রহমান বলেন, রাস্তার উপর ফসল মাড়াই করার কারণে মোটরসাইকেল চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অটোরিকশা চালক আজিজ বলেন, অনেক সময় চাকায় ফসল জড়িয়ে অটো আটকে যায়। এ অবস্থায় গাড়ি চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিব জানান, অনেকেই বাড়ির উঠানের মতো সড়ক ব্যবহার করে ফসল মাড়াই করছেন। এতে সড়কে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। তিনি এ সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তির জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে গত বছর উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিলেও এ বছর এখনো তেমন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান মানবজমিনকে বলেন, শিগগিরই জনসচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করা হবে। এরপরও কেউ নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গ্রামীণ সড়ক তো নয় যেন কৃষকের উঠান
মাহামুদুন নবী, মহম্মদপুর (মাগুরা) থেকে
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
