সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। তবে তা মানছেন না টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বেশিরভাগ কর্মকর্তা। ঝাড়ুদার ও অফিস সহকারীরা সকালে অফিস খুললেও কর্মকর্তারা আসছেন নিজেদের খেয়ালখুশিমতো সময়ে। রোববার সকালে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়। গত ২ মার্চ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ অফিসে অবস্থানের নির্দেশ দিয়ে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়, শুধুমাত্র ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের প্রটোকল, বড় ধরনের দুর্ঘটনা মোকাবিলা, গুরুত্বপূর্ণ সভায় যোগদান এবং অনুমোদিত ভ্রমণসূচিতে সফরে যাওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া এই নির্দেশনা পালন বাধ্যতামূলক।
এর আগে ২০১৯, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৩ সালেও এ নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়। তবে ভূঞাপুরে নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে সেই নিয়মে ভাটা পড়েছে। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে সরকারি বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষদের। ফলে ধীরগতি দেখা দিচ্ছে সরকারি কাজেও। সরজমিন দেখা যায়, অফিস কক্ষ খোলা থাকলেও সকাল ৯টা ৪০ পর্যন্ত অফিসে আসেননি শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তার বানু, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ এনামুল হক। ৯টা ৪০ মিনিটের পর অফিসে আসেন উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার অধিকাংশ দপ্তরেই দেখা গেছে একই চিত্র। রুম খোলা রেখে প্রতিটি কক্ষেই জ্বলছিলো লাইট।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম বলেন, আমাদের জরিপ চলছে। মাঠে কাজ করছি। আমাদের জন্য ৯টা ৪০ পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করা বাধ্যতামূলক না। ২টার পর অফিসে আসেন, বিস্তারিত বলবো। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তার বানু বলেন, আমি অফিসের নীচে উপজেলার আশেপাশেই ছিলাম। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হাসান বলেন, বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অফিস সময় মানছেন না ভূঞাপুরের বেশিরভাগ কর্মকর্তা
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
