সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলার তাহিরপুর, দিরাই, শাল্লা ও জামালগঞ্জ উপজেলায় তুলনামূলক বেশি শিলাবৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর হঠাৎ করে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। রাত পর্যন্ত থেমে থেমে শিলা, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে থাকে। এতে বৃহৎ শনির হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ জেলার ছোট-বড় বিভিন্ন হাওরের বোরো ধান ও ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে শংকর মধ্যে পড়েছেন কৃষকরা।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জ জেলার ১৩৭টি হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই কৃষকরা তাদের কষ্টার্জিত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু হঠাৎ করে শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাহিরপুর উপজেলার মাটিয়ান হাওরের কৃষক মোক্তার হোসেন বলেন, এ বছর হাওরের পরিস্থিতি ভাল মনে হচ্ছে না। ধানে মাত্র শিষ আসতে শুরু করেছে। এ সময় যদি বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি বাড়ে তাহলে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তার সঙ্গে পাহাড়ি ঢল নেমে এলে ফসল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক শফিক মিয়া বলেন, হঠাৎ করে বৃষ্টির সঙ্গে বড় বড় শিলা পড়ছে। এসব শিলা ফসলি জমিতে পড়লে ধানের শিষ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং দিন-রাতে কয়েক দফা শিলা পড়েছে। সেই সঙ্গে হাওরাঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াও বইছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের শিষের বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুনামগঞ্জে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি, কৃষকদের মাঝে শঙ্কা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
১৬ মার্চ (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
