ইসরাইল–লেবানন সংঘাত থামাতে প্যারিসে বৈঠকের প্রস্তাব ম্যাক্রনের

ইসরাইল–লেবানন সংঘাত থামাতে প্যারিসে বৈঠকের প্রস্তাব ম্যাক্রনের

ফন্ট সাইজ:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইসরাইল–লেবানন সংঘাত প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রয়োজনে প্যারিসে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে এমন কোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকতে হবে যা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইসরাইলকে লেবাননে তীব্র বোমাবর্ষণ ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বাড়লে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ম্যাক্রন বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডকে আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং উত্তেজনা কমানোর জন্য দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, লেবাননের সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসার বিষয়ে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে দ্রুত যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজে বের করতে ফ্রান্স প্যারিসে একটি কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজন করতে প্রস্তুত রয়েছে। ম্যাক্রনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোই সবচেয়ে জরুরি।

লেবাননে চলমান সংঘাতের ফলে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ফ্রান্স মানবিক সহযোগিতা জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।

ফ্রান্স দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। দক্ষিণ লেবাননে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমেও দেশটি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফরাসি সরকার।

বর্তমানে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার নিরাপত্তার খোঁজে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল আশঙ্কা করছে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না হলে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়িয়েছে, যাতে দ্রুত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যায় এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন