বৃটেনের ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ভিসা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার পর দু’টি দেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, এই দুই দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেশি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। মে মাসে বৃটিশ সরকার একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। তাতে অভিবাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, যদি কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ১০ শতাংশের বেশি হয়, তাহলে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্পন্সর করার লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র জানান, যেসব শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে কনফার্মেশন অব এক্সেপট্যান্স ফর স্টাডিজের (সিএএস) নথি পেয়েছেন, তারা তাদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে অন্য সব আবেদন বাতিল করা হবে। যদি কেউ ইতিমধ্যে ডিপোজিট বা অগ্রিম অর্থ জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে তাকে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেয়া হবে বলে তিনি জানান। মুখপাত্র বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ১০০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ২ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানাতে পেরে গর্বিত। তিনি বলেন, ডার্বি একটি বৈচিত্র্যময় ও অতিথিপরায়ণ শহর। আমরা বৈচিত্র্য ও সমতার মূল্যবোধকে প্রচার ও উদযাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তবে তিনি আরও বলেন, আমাদের অবশ্যই বৃটেনের ভিসা নিয়ম মেনে চলতে হবে। এজন্য আমরা আমাদের বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে এই নিয়মগুলো যথাযথভাবে মানা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, এই ‘সাময়িক স্থগিতাদেশ’ অন্তত শরৎকাল পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে। এ বিষয়ে বৃটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে শিক্ষা খাত ও বৃটেনের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখি এবং তাদের শক্তিশালী ভর্তি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ করি। তিনি আরও বলেন, সব ভিসা আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হয় এবং তা অভিবাসন নিয়ম অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়। কোনো আবেদন জটিল হলে এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে তা সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগতে পারে।
