মালদ্বীপে পুড়ে ছাই বগুড়ার নুরনবীর রঙিন ভবিষ্যৎ

ফন্ট সাইজ:

২০১৬ সালে এক বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জের যুবক নুরনবী সরকার। লক্ষ্য ছিল একটাই, বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। গত দশ বছরে বিদেশের জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে সেই হাসি তিনি ফুটিয়েছিলেন ঠিকই, অভাব দূর করে পরিবারে এনেছিলেন সচ্ছলতা। কথা ছিল আগামী ঈদুল ফিতরের পর দশ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে স্থায়ীভাবে দেশে ফিরবেন। শুরু করবেন নতুন সংসার, বুনবেন জীবনের নতুন গল্প। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। নুরনবী ফিরছেন ঠিকই, তবে জীবিত নয়; ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে।
গত শুক্রবার যখন পুরো মালদ্বীপ সেহরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কেড়ে নেয় নুরনবীসহ পাঁচ বাংলাদেশির প্রাণ। আগুনের লেলিহান শিখা মুহূর্তেই ছাই করে দেয় দীর্ঘ এক দশকের শ্রম আর সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্নগুলো। শুক্রবার দুপুরে যখন এই মৃত্যুর খবর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে পৌঁছায়, তখন আকাশ-বাতাস বিদীর্ণ করে ওঠে স্বজনদের আহাজারি। শনিবার সকালে জামালপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। যে বাড়িতে নুরনবীর আগমনের অপেক্ষায় ঈদের প্রস্তুতি নেয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধুই শোকের মাতম।

পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শুরু করে দূর-দূরান্তের স্বজনরা ছুটে আসছেন এক নজর সান্ত্বনা দিতে, কিন্তু সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা হারিয়েছেন সবাই। নিহত নুরনবীর বাবা আব্দুস সালামের চোখের পানি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। রুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলছিলেন, ‘আমার ছেলেটা প্রবাসে গিয়েছিল অভাব দূর করতে। অভাব তো গেছে ঠিকই, কিন্তু আজ আমার ছেলেটাই চলে গেল। সচ্ছলতা দিয়ে আমি কী করবো, যদি আমার সন্তানই না থাকে?’ তিনি আরও জানান, দশ বছর পর নুরনবী দেশে ফিরে নতুন করে ঘর বাঁধার পরিকল্পনা করছিল। পরিবারের সবাই সেই অপেক্ষায় দিন গুনছিল। কিন্তু মুহূর্তের এক দুর্ঘটনা সব তছনছ করে দিলো।
শোকাহত গ্রামবাসীর চাওয়া এখন একটাই, প্রিয় মানুষটির মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। পরিবারের সদস্যরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে। এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনের কেউ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন নুরনবীর বাবা। তাদের আকুল আবেদন, সরকার যেন দ্রুত মালদ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে নুরনবীর মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে। প্রবাসের মাটিতে দেশের জন্য রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে কাজ করা নুরনবীর এই করুণ মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, পুরো এলাকার জন্য এক অপূরণীয় শূন্যতা। এখন শুধু অপেক্ষা, কখন তার কফিনটা গ্রামে এসে পৌঁছাবে আর কখন স্বজনরা শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখতে পাবে। বিষয়টি নিয়ে বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন