ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে ট্রাম্পের ধর্মীয় প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরার পদত্যাগ
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে ট্রাম্পের ধর্মীয় প্যানেলের একমাত্র মুসলিম নারী সামিরার পদত্যাগ

ফন্ট সাইজ:

হোয়াইট হাউস রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনে দায়িত্ব পালন করা একমাত্র মুসলিম নারী পদত্যাগ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহ পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত সামিরা মুনশি ঘোষণা দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এবং দেশের বাইরে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অন্যায় ও নৃশংসতার’ কারণে তিনি পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। এক্সে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ‘অবৈধ যুদ্ধ’ তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। তার দাবি, এই সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বা কংগ্রেসের যথাযথ অনুমোদন ছাড়াই শুরু করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

নিজের বিবৃতিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমার নাম সামিরা মুনশি। আমি হোয়াইট হাউস রিলিজিয়াস লিবার্টি কমিশনের উপদেষ্টা হিসেবে প্রেসিডেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য। আজ আমি দেশে ও দেশের বাইরে এই প্রশাসনের অন্যায় ও নৃশংসতার প্রতিবাদে পদত্যাগ করছি।’

ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে মুনশি কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক হামলায় শিশুসহ বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী। তার আরও দাবি, ট্রাম্প প্রশাসন এসব পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়ার জন্য। এই ইসরাইলকে সামিরা ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেন। তিনি আরও লিখেছেন- কমিশন, সরকার বা কোনো স্বার্থগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও ভয়ভীতি বা চাপের কারণে আমি পদত্যাগ করছি না। আমি পদত্যাগ করছি, কারণ আমি এই কমিশনের সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত অন্যায় সরাসরি দেখেছি, এবং এর সঙ্গে আর কোনোভাবেই যুক্ত থাকতে চাই না।

তার পদত্যাগের আরেকটি কারণ ছিল কমিশনের সদস্য ক্যারি প্রিজিয়ান বোলারকে বোর্ড থেকে অপসারণ করা। সাবেক মিস ক্যালিফোর্নিয়া ইউএসএ এবং পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া বোলারকে ফেব্রুয়ারিতে কমিশন থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর এবং কমিশনের চেয়ার ড্যান প্যাট্রিকের মতে, অ্যান্টিসেমিটিজমকে কেন্দ্র করে হওয়ার কথা ছিল এমন একটি শুনানিকে বোলার ‘নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার’ চেষ্টা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক এজেন্ডা’ সামনে আনার অভিযোগ তোলা হয়।

সামিরা মুনশি বলেন, তিনি বোর্ডে যোগ দিয়েছিলেন সাধারণ আমেরিকানদের পক্ষে কথা বলার জন্য, যাদের কণ্ঠস্বর সরকারে প্রায়ই শোনা যায় না। শুরুতে তার মনে হয়েছিল, বিশ্বের অনেক স্থানের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মানুষ ধর্ম পালনের বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার আন্তরিক অঙ্গীকারের বদলে কমিশনটি গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। মুনশি বলেন, ফিলিস্তিন নিয়ে মতামতের কারণে অনেক মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বোলারকে তার ধর্মীয় বিশ্বাসভিত্তিক মত প্রকাশের কারণে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিবৃতির শেষে তিনি লিখেছেন, আমি এই দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিপজ্জনক প্রশাসনের আমেরিকান নাগরিক এবং নিরপরাধ মানুষের জীবনের প্রতি অবহেলা দেখেছি এবং এর সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে চাই না। আমি ইসরাইলের আগে আমেরিকাকে সমর্থন করি, আর দুর্ভাগ্যজনকভাবে তার মানে হলো আমি ট্রাম্প বা এই সরকারকে সমর্থন করতে পারি না।

Nurul Amin FCMA

২ মাস আগে

Excellent decision

Hedayet Ullah

২ মাস আগে

Congratulations to Samira Munshi for her courageous protest.

Atiqur rahman

২ মাস আগে

ধন্যবাদ
সামিরা মুনশি এবং বিবেকবান আমেরিকানদের জন্য শুভকামনা।।

মন্তব্য করুন