পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নৌ-পথে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। যাত্রীবাহী লঞ্চে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ না হওয়ায় ঈদের সময় স্বাভাবিক লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল সংস্থা। শনিবার সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বাদল এমন অভিযোগ করেন।
লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত ডিপো—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল ও লুব্রিকেন্ট তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। ফলে ঈদকে সামনে রেখে লঞ্চ পরিচালনা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ঢাকা নদী বন্দর থেকে বর্তমানে ৩৮টি নৌপথে প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি লঞ্চ চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১৪০টিতে দাঁড়ায়। এসব লঞ্চ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে আড়াই থেকে তিন লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।’
তিনি জানান, ঢাকা-বরিশাল রুটের প্রতিটি লঞ্চে গড়ে প্রায় ৭ হাজার লিটার, পটুয়াখালী রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার এবং বেতুয়া রুটে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। শুধু ঢাকা থেকে চলাচলরত লঞ্চগুলোর জন্যই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি দরকার।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ডিপোতে এক লাখ লিটার তেলের চাহিদা দিলে সেখানে ১০ থেকে ২০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ডিপোর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সদরঘাটে লঞ্চ পরিচালনার জন্য তাদের কোনো নির্দিষ্ট কোটা নেই।
লঞ্চ মালিকদের দাবি, আগামী ১৫ ও ১৬ তারিখ ব্যাংক খোলা থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সদরঘাটের জন্য চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা না হলে ঈদে নৌপথে যাত্রী পরিবহন ব্যাহত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রীবাহী নৌযানে যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। অনেক লঞ্চ ইতোমধ্যে অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে যে লঞ্চগুলো চলাচল করছে, ঈদের সময় যাত্রী চাপ সামাল দিতে সেগুলোকে ডাবল ট্রিপ দিতে হয়। এজন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সদরঘাট থেকে পরিচালিত লঞ্চগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন লঞ্চ মালিকরা। সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিনও একই দাবি জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
