ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ব্যয় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: পেন্টাগন

নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট

ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ব্যয় ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: পেন্টাগন

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের পেন্টাগন জানিয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই ব্যয় ছাড়িয়ে গেছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত এক গোপন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিং সম্পর্কে অবগত তিনজন সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউ ইয়র্ক টাইমস। এ হিসাবের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র এবং সেনা মোতায়েনের জন্য করা প্রস্তুতির অনেক খরচই অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে কংগ্রেস সদস্যরা মনে করছেন, পেন্টাগন যখন পুরো হিসাব সম্পন্ন করবে তখন ব্যয়ের পরিমাণ আরও অনেক বাড়তে পারে। তবুও এ পর্যন্ত কংগ্রেস যে তথ্য পেয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত মূল্যায়ন। যুদ্ধের লক্ষ্য, পরিধি এবং সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন বাড়তে থাকায় এই হিসাব বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক কংগ্রেসীয় ব্রিফিংয়ে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এই ব্যয়ের হার আগে প্রকাশিত তথ্যের তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাবে বলা হয়েছিল, সামরিক অভিযানের প্রথম ১০০ ঘণ্টায় খরচ হয় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ৮৯১.৪ মিলিয়ন ডলার। যুদ্ধের প্রথম ধাপের বোমা হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে এজিএম-১৫৪ গ্লাইড বোমাসহ বিভিন্ন অস্ত্র। প্রতিটি বোমার দাম প্রায় ৫৭৮,০০০ থেকে ৮৩৬,০০০ ডলার। প্রায় দুই দশক আগে মার্কিন নৌবাহিনী এই ধরনের প্রায় ৩০০০ বোমা কিনেছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অপেক্ষাকৃত সস্তা অস্ত্র ব্যবহারের দিকে ঝুঁকেছে, যেমন জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম)। এর সবচেয়ে ছোট আকারের ওয়ারহেডের দাম প্রায় ১০০০ ডলার, আর গাইডেন্স কিটের দাম প্রায় ৩৮,০০০ ডলার। কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর মিশ ম্যাকনেল পেন্টাগনের অর্থায়ন সংক্রান্ত সাবকমিটির চেয়ারম্যান, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে গোলাবারুদ উৎপাদনে ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে অন্য কিছু রিপাবলিকান সামরিক বাজেট আরও বাড়ানোর ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দিষ্ট সময়ের সংঘাতে রূপ নিতে পারে, তাই নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্রেট দলও জরুরি অর্থায়নের প্রস্তাব সমর্থন করার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগে কংগ্রেসকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে- যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল কী এবং এই যুদ্ধের শেষ লক্ষ্য বা ‘এন্ডগেম’ কী হতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন