প্রথম আলো
‘নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার পথ খুঁজছে আওয়ামী লীগ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন কৌশল সাজাচ্ছে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে থাকা দলটি এখন সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—এই চার স্তরের নির্বাচনে কীভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সেই কৌশল খুঁজছে। তাদের লক্ষ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরে আসা।
আত্মগোপনে থাকা এবং দেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে দলটির এমন চিন্তা-কৌশলের কথা জানা গেছে। দলটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনের পাশাপাশি তাদের আরেকটি লক্ষ্য পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। বিশেষ করে আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচনে কিছুটা জায়গা তৈরি করতে চায় তারা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরের জনপ্রতিনিধিদের পদ শূন্য হয়ে যায়। এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এটাকে রাজনৈতিক ‘এন্ট্রি পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা। কারণ, এসব নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রভাব, স্থানীয় নানা ইস্যু এবং দলীয় সমর্থন—সবই ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দলীয় একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ভার্চ্যুয়ালি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এর মধ্যে অন্তত দুটি কর্মসূচিতে আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীদের দেশে ফেরার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফিরে আসতে হলে স্থানীয় নির্বাচনে আগে যুক্ত হতে হবে। সে লক্ষ্যেই কারাগারে থাকা নেতা-কর্মীদের জামিনের বিষয়টিতে জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
আইনজীবী সমিতি নিয়ে আশাবাদ
পেশাজীবী সংগঠন, বিশেষ করে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সক্রিয় রয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেলগুলো। গত মাসে কয়েকটি জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের ফলাফলে দলটি কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছে।
সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৭টি পদের মধ্যে ৭টি পদে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল। যদিও সভাপতি পদে বিএনপি-সমর্থিত এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
এর আগে ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতিসহ ১০টি পদে জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীরা। ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল সাধারণ সম্পাদকসহ ৯টি পদে জয়ী হয়েছে। এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরে ৮টি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬টি পদে জয় পেয়েছে।
এসব নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীও অংশ নেয়। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতো শীর্ষ পদগুলোতে বিএনপি বা জামায়াত-সমর্থিত প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছেন।
সারা দেশে ৭৪টি আইনজীবী সমিতি রয়েছে। আওয়ামী লীগের দলীয় হিসাব অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ১৪টি আইনজীবী সমিতির নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচনে বিভিন্ন পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থক আইনজীবীরা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে আগামী ১৩ ও ১৪ মে অনুষ্ঠেয় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আইনজীবী সংগঠনের নির্বাচনে শীর্ষ পদে জয়ের ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী না হলেও অন্যান্য পদে ভালো ফল করার লক্ষ্য নিয়েছেন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা।
স্থানীয় নির্বাচনে লক্ষ্য
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু করেছিল আওয়ামী লীগ সরকারই। এখন আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীই মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া উচিত।
আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলে আওয়ামী লীগের জন্য অংশগ্রহণ সহজ হবে। আর দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তবে স্বতন্ত্র হিসেবে ভোট করার সুযোগ থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতাদের মতে, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক চালু করা আওয়ামী লীগের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। এর ফলে তৃণমূলে বিভেদ বেড়েছে এবং দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিএনপিসহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো একই ভুল করবে না বলেই তাঁদের ধারণা।
সারা দেশে সিটি করপোরেশন আছে ১২টি। এর সব কটিই এখন অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তর ইউনিয়ন পরিষদ, যার সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের বেশি। উপজেলা রয়েছে ৫০০টির মতো এবং পৌরসভার সংখ্যা তিন শতাধিক।
সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের কোনো পর্যায়েই এখন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নেই। গত দেড় বছরের এই শূন্যতায় সেবা পেতে নানা পর্যায়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে নাগরিকদের।
সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোট শুরু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এরপর ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ ১ মার্চ নির্বাচন ভবনে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঈদের পর থেকে বছরজুড়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে দলীয় প্রতীক নাকি নির্দলীয় প্রতীকে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে তার জন্য সংসদের প্রথম অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ, সেখানে দলীয় রাজনীতির প্রভাব থাকলেও তা এতটা তীব্র নয়। কিন্তু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণের পাশাপাশি সাংগঠনিক ও মাঠপর্যায়ের নানা প্রস্তুতি নিতে হয়। ঈদুল ফিতরের পর তাঁরা সেই প্রস্তুতির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন।
লেখক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিঃসন্দেহে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জন্য একটা সুযোগ। দলটির চিহ্নিত এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক স্থানীয় নেতা হয়তো হয়রানির ভয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন না। স্থানীয়ভাবে অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তি আছেন যাঁরা নিজ দলের শাসনামলে সুযোগ পাননি। তাঁরা হয়তো এবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে মহিউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে এ–ও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ পাবে—এটা ঠিক। তবে জাতীয়ভাবে দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন হবে কি না তা বলা মুশকিল। কারণ, তাদের পুরো নেতৃত্ব আত্মগোপনে। তাদের মধ্যে অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুশোচনা এখনো দেখা যায়নি। ফলে তাদের জাতীয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরতে হলে আরও অনেক কিছু করতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হবে বিদেশে’। খবরে বলা হয়, দেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনের আওতায় এই কার্যক্রম চলবে। পাচার করা সম্পদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, সেই তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের পাশাপাশি দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেলেই কেবল ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রমের শেষ ধাপে দেশে ও বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে বহুবিদ তদন্তের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এখনও কোনো মামলা হয়নি। তবে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে পাচার করা সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা হতে পারে। এসব টাকা ফেরাতে এখন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র জানায়, পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছিল। এর অংশ হিসাবে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তৎকালীন বেসরকারি খাত বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো গ্রুপের নামে যুক্তরাজ্যে থাকা বেশ কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়। দেশেও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রপ্তানির বিল দেশে না এনে পাচার করা বেশ কিছু সম্পদ কঠোর তদারকির মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে পাচার করা টাকা ফেরানোর কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে পাচার করা টাকা ফেরানোর কার্যক্রমকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত করে। পাচার করা সম্পদ ফেরানোর টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ নিয়ে বিস্তর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
তার গৃহীত বহুবিদ পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে-পাচার করা সম্পদ ফেরাতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ফৌজদারি ও দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করা, বিদেশে তদন্ত পরিচালনা ও আইনি লড়াই চালাতে সম্পদ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে পাচার করা সম্পদ ফেরানোর কার্যক্রমে যুক্ত করা, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালনা পর্ষদকে এ কাজের জন্য সম্পূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া, টাকা পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ছয়টি গ্রুপকে চিহ্নিত করে এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু করা এবং এর শেষ ধাপে তাদের বিরুদ্ধে পাচারকারী দেশে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর শীর্ষ পাচারকারীদের শতাধিক ঘটনা নিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই কাজে তথ্য সংগ্রহ, তদন্ত পরিচালনা ও বিদেশে মামলা করার জন্য আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করতে বলা হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। যেসব ব্যাংক থেকে টাকা পাচার হয়েছে ওইসব ব্যাংক এসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাপি ঋণের তথ্য দিতে শুরু করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে পাচার করা অর্থ সম্পর্কে অনুসন্ধান করছে সংস্থাগুলো। এসবের পাশাপাশি টাকা পাচারকারীদের বিষয়ে নতুন করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
কালের কণ্ঠ
‘যুদ্ধে অর্থনীতিতে নতুন ঝুঁকি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ কমে যাওয়া, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) প্রকাশিত ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক, ফেব্রুয়ারি ২০২৬’ প্রতিবেদনে অর্থনীতির কিছু সূচকে সামান্য স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিললেও রাজস্ব আয়, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ব্যয়ের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব যুক্ত হলে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন জিইডির সদস্য (সচিব) ড. মনজুর হোসেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘নতুন সংকট হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট।
লম্বা সময় ধরে যুদ্ধ চলতে থাকলে সংকটগুলো দেখা দেবে। ফলে মাইক্রো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়তে পারে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
মূল্যস্ফীতিতে নতুন চাপের শঙ্কা: বর্তমানে দেশের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত চার মাসে টানা বৃদ্ধির পর মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী সাধারণ মানুষকে জীবন ধারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। যার কারণে ঋণ করে চলতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে পারে। এতে পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ এবং শিল্প-কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়বে।
বিনিয়োগে দুর্বলতা: দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কম হওয়ায় বোঝা যাচ্ছে, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগে আরো সতর্ক হয়ে উঠতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন সম্প্রসারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাতে পারেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
রাজস্ব ঘাটতিতে বাড়ছে চাপ: চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৯ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪.৫ শতাংশ। বাকি সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ৫৯.৪ শতাংশ হারে রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা বাস্তবে সম্ভব নয়।
বর্তমানে রাজস্ব ঘাটতি প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় সরকারকে ব্যাংক খাতের ওপর বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং খাত থেকে ৫৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে ব্যাংকবহির্ভূত ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘জ্বালানি সংকটে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি বাড়ার শঙ্কা’। খবরে বলা হয়, নীলাচল পরিবহনের বাসের সংখ্যা ৩৫০টি। এর ৯৫টি চলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের মতো দূরপাল্লার রুটে। গত বৃহস্পতিবার ৩০টি বাস বন্ধ ছিল তেল সংকটে। কোম্পানিটির গাবতলী-নরসিংদী রুটের ৪০ বাসের ১৬টি বন্ধ ছিল ফিলিং স্টেশনে (তেলের পাম্প) যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে জ্বালানি না পেয়ে।
নীলাচলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাবউদ্দিন মাসুদ এই তথ্য জানিয়ে সমকালকে বলেছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নিশ্চিত। ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আসা-যাওয়ায় ৩৫০ লিটার ডিজেল লাগে। পথে তেল কেনায় যাতে সময় নষ্ট না হয়, সেজন্য আগে বাসের ট্যাঙ্ক পূর্ণ করে ৪০০ লিটার ডিজেল একসঙ্গে ভরা হতো। কিন্তু সংকট শুরুর পর একসঙ্গে ১০০ লিটারের বেশি ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই তেলে কক্সবাজার যাওয়া যায় না। পথে আবার তেল নিতে হয়।
তিনি আরও বলেন, পাম্পে ব্যক্তিগত যানবাহনের দীর্ঘ সারির কারণে তেল নিতে বাড়তি দুই-তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এ কারণে শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি নয়, বাসের শিডিউলও এলোমেলো হচ্ছে। ঈদে গাড়ির চাপ বাড়বে। তখন যানজটও বাড়বে। এর সঙ্গে তেলের জন্য লাইন ধরার সময় যুক্ত হলে, ঈদযাত্রায় ব্যাপক দুর্ভোগ হবে।
একই কথা বলছেন অন্য মালিকরাও। তাদের ভাষ্য, সরকারের রেশনিং পদ্ধতি চালুর কারণে ভোগান্তি বেড়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তেল না পেলে ঈদে অচলাবস্থা তৈরি হবে। অধিকাংশ বাস ঈদযাত্রার আগাম টিকিট, তেলের বর্তমান দাম অনুযায়ী বিক্রি করেছে। এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়লে, লোকসানও বাড়বে। যদিও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম মালিকদের আশ্বস্ত করেছেন, তেলের দাম বাড়বে না। রোববার থেকে তেলের জোগান বাড়বে। সংকট থাকবে না।
সংকটে এখনই ভোগান্তি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তেল আমদানি কমেছে। মার্চে চট্টগ্রামে পৌঁছার কথা তিনটি জাহাজের আসা বিলম্বিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইত্তেফাক
‘কৌশলগত ভুলে দীর্ঘ হচ্ছে যুদ্ধ হরমুজকে গুরুত্ব দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কার্যত জয়ী হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই যুদ্ধ গতকাল ১৪তম দিনে গড়িয়েছে। থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং বিশ্বে জ্বালানি সংকট ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞরা যুদ্ধ শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ভুলকে দায়ী করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনও জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানে হামলার আগে হরমুজ প্রণালি নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যুদ্ধের দ্রুত অবসানের ইঙ্গিত দিলেও ইরান দীর্ঘ মেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। প্রকাশ্যে এবং গোপনের মধ্যস্থতার চেষ্টাও কোনো কাজে আসছে না।
খামেনি হত্যাকেই গুরুত্ব দেওয়া
হামলা শুরু হওয়ার সময়ে ওয়াশিংটনে ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ছিল যে, এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে এবং কার্যত একতরফা হবে। কিন্তু গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধকেও ছাড়িয়ে গেছে এবার। সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের দিকে আঙুল তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইরানে হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেই তেহরানের সামরিক বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়বে। ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের স্মৃতিকেই গুরুত্ব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে উলটোটা হয়েছে। বরং সামরিক বাহিনী দ্বিগুণ গতিতে খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এই প্রত্যাঘাতের কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি ট্রাম্প প্রশাসন।
হরমুজের প্রভাব নিয়ে ভুল বিশ্লেষণ
ইরানে হামলা জ্বালানির বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তার বাস্তবতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়নি। অনেকেই মনে করেছিলেন, যুদ্ধের প্রথম দিকে জ্বালানির দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও দ্রুত আবার তা কমেও যাবে। সিএনএন ট্রাম্প প্রশাসনের সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অভিযানের পরিকল্পনা করার সময় যুদ্ধ দপ্তর পেন্টাগন এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ মার্কিন সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার জন্য ইরানের পরিকল্পনাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। সূত্রগুলো স্বীকার করেছে, সংঘাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন। তবে জাতীয় নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের একটি শক্ত বৃত্তের ওপর নির্ভর করেছিলেন ট্রাম্প।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে হয়। ইরান যখন ইঙ্গিত দেয় যে, তারা জাহাজে হামলা করবে বা শিপিং রুট বন্ধ করে দিতে পারে, তখন পারস্য উপসাগরে অনেক জাহাজ চলাচলই কমে যায়। এতে তেলের দাম দ্রুত ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। জ্বালানির দাম বাড়ায় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই পদক্ষেপ।
কেবল হরমুজ নয়, আরব উপদ্বীপের অন্যদিকে বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এটি ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। তবে সেখানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়েমেনভিত্তিক হুতিরা কয়েকটি হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি ও পণ্য বাজারের তথ্য সংগ্রাহক সংস্থা ‘আর্গাস’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ডেভিড ফাইফ বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হবে। যেসব জাহাজ এশিয়া থেকে আটলান্টিকের দিকে যেতে চায়, তাদের আফ্রিকার দক্ষিণে কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যেতে হবে। লন্ডনভিত্তিক থিংকট্যাংক চ্যাথাম হাউজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ নিল ক্যুইলিয়ামের মতে, এই পথে ১০ থেকে ১৪ দিন বেশি সময় লাগবে। পণ্যের ওপরে নির্ভর করে গড়ে একেকটি জাহাজের অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ ডলার খরচ হবে।
রাশিয়া ও চীনকে হিসাবে না আনা
মার্কিন প্রশাসন ধারণা করেনি যে, ইরানকে রাশিয়া এবং চীন সহায়তা করতে পারে। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির তথ্য দিচ্ছে। ইরান তার টার্গেট নির্ধারণ করতে পারছে। ইরানের রণনীতিতেও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের হাত আছে বলে মনে করেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ড্রোন কৌশলও রাশিয়ার কাছ থেকে আসছে। আবার চীনও ইরানকে মহাকাশ থেকে সহায়তা করছে বলে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র সাবেক কর্মকর্তা ব্রুস রিডেল বলেছিলেন, আধুনিক যুদ্ধে বুলেটের চেয়ে সমন্বয় অনেক বেশি মূল্যবান। শত্রু কোথায় আছে তা জানাটাই গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগরে এখন সেই তত্ত্বই বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘আরো তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের’। খবরে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আগামী সপ্তাহে আরো জোরদার করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল শুক্রবার সকালে ফক্স নিউজের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে ইরানে ‘খুবই কঠোর’ আঘাত হানার পরিকল্পনা করেছে। ফক্স নিউজে প্রচারিত ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি এর আগে একই দিন সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া একটি পোস্টেরই প্রতিধ্বনি। সেখানে ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে ইঙ্গিত করে কঠিন পরিণতির হুঙ্কার দেন তিনি।
এ দিকে ট্রাম্প যখন আগামী সপ্তাহে ইরানে কঠোর হামলা চালানোর হুমকি দিলেন, তখন একই দিনে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ গতকালই তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চসংখ্যক হামলার দিন হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
অন্য দিকে ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেলআবিবসহ ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতির কথাও সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় স্ট্র্যাটোট্যাংকারে থাকা ছয় ক্রু’র চারজন প্রাণ হারিয়েছে। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী এটি ভূপাতিতের দাবি করেছে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা হাজারো মার্কিন সেনা ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের মানবঢাল বানিয়ে হোটেল ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
ইসরাইলে দফায় দফায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা : ইরান থেকে ইসরাইলের দিকে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে দু’জন আহত হয়েছেন বলে জানায় তেলআবিবের জরুরি সেবা কর্তৃপক্ষ। ইসরাইলি সেনাবাহিনী অফিসিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে এক বিবৃতিতে জানায়, ‘আজ ইরান থেকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ)। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের হুমকি প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে। এর কিছুক্ষণ পর ইসরাইলে একই ধরনের আরো একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। প্রাথমিক সতর্কবার্তা বা সাইরেন বাজার পর ইসরাইলের জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডম জানায়, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো জরুরি কল আসেনি। তবে দ্বিতীয় সতর্কবার্তার পর তারা জানায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলে দুই ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানান, শেল বা বিস্ফোরণের ধাতব টুকরার আঘাতে এক ৩৪ বছর বয়সী নারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
বণিক বার্তা
‘মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় ঝুঁকিতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিশেষ করে হিলিয়াম ও ব্রোমিনের মতো উপাদান সরবরাহে বিঘ্ন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ব প্রযুক্তি শিল্পে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ উৎপাদন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। আর তাতে স্মার্টফোন থেকে ল্যাপটপ, ইলেকট্রনিক পণ্য থেকে গাড়ি, সার্ভার থেকে ব্যাংকিং—প্রযুক্তিনির্ভর বহু খাতেই ব্যয় বাড়বে এবং ব্যাহত হবে সেবা। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ই-কমার্স, অনলাইন লেনদেন, শিল্প উৎপাদন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চাপে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির গতি শ্লথ করে দিতে পারে; যার শেষ ধাক্কা গিয়ে লাগবে সাধারণ ভোক্তার জীবনযাত্রার ব্যয়ে।
চিপ উৎপাদনের কাঁচামাল এক অঞ্চল থেকে আসে, জ্বালানি অন্য অঞ্চল থেকে, উৎপাদন হয় আরেক দেশে আর ব্যবহার হয় পুরো পৃথিবীতে। ফলে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধও খুব দ্রুত বৈশ্বিক প্রযুক্তি অর্থনীতিকে নাড়িয়ে দিতে পারে। ইরান যুদ্ধ সে বাস্তবতারই একটি নতুন উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সংঘাত যদি দ্রুত শেষ না হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তা বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অস্থির করে তুলতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে স্যাটেলাইট থেকে স্মার্টফোন, চিকিৎসা যন্ত্র থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি—সবকিছুর মূল ভিত্তি হলো কম্পিউটার চিপ বা মাইক্রোচিপ (ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট)। আধুনিক ডিজিটাল যুগের অবকাঠামো কার্যত এ ক্ষুদ্র চিপগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে এ সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিপর্যয় মানে কেবল প্রযুক্তি খাতের সংকট নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি, আর্থিক লেনদেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এমনকি দৈনন্দিন জীবনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপরও তার সরাসরি প্রভাব পড়া।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ফলে এখন সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চিপ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ও জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা। সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রে হিলিয়াম ও ব্রোমিনের মতো কিছু উপাদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি আধুনিক চিপ তৈরিতে শতাধিক ধাপের সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া অতিক্রম করতে হয়; যেখানে তাপমাত্রা, গ্যাসের বিশুদ্ধতা ও রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ হয় অত্যন্ত নিখুঁতভাবে। এ কারণেই নির্দিষ্ট কিছু গ্যাস ও রাসায়নিকের ওপর শিল্পটি ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
চিপ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় সিলিকন থেকে তৈরি অত্যন্ত মসৃণ একটি পাতলা ডিস্ক বা সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফার দিয়ে। এরপর তার ওপর স্তরভিত্তিকভাবে সার্কিট নকশা বসানো হয়। কাজটি করা হয় ফটোলিথোগ্রাফি নামের একটি জটিল প্রক্রিয়ায়। এতে আল্ট্রাভায়োলেট আলো ব্যবহার করে ওয়েফারের ওপর সূক্ষ্ম সার্কিটের নকশা আঁকা হয়। এ ধাপের পর ওয়েফারের কিছু অংশ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কেটে বা ক্ষয় করে ফেলা হয়, যাকে বলা হয় প্লাজমা এচিং। আবার কোথাও নতুন উপাদানের স্তর বসানো হয়। এ পুরো প্রক্রিয়াটি বহুবার পুনরাবৃত্তি হয়, যাতে শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষুদ্র সিলিকন টুকরোর মধ্যে কোটি কোটি ট্রানজিস্টর তৈরি করা যায়।
আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব: জ্বালানির সংকটে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় বিশ্বে তেল-গ্যাসের সরবরাহে বড় ধরনের টান পড়েছে। এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মজুত থাকলেও বাংলাদেশের ওপর সংকটের প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংকট থেকে রেহাই পেতে বাংলাদেশের জন্য দুটি নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকায় গতকাল ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, বাংলাদেশি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ পার হতে দিতে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ তিনি তেহরানে পৌঁছে দিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত বলেছেন, কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। অন্যদিকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্যও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ ছাড়ের (ওয়েভার) অপেক্ষা করছে ঢাকা। এদিকে জ্বালানিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে গতকাল রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামীকাল ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহন পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল পাবে এবং তেলের দামও বাড়বে না।
ইরানের রাষ্ট্রদূত জালিল রাহিমী জাহানাবাদী গতকাল ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক কুদস কমিটি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এর এক ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য জ্বালানিবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
ইরানি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি দেখেছি, আপনাদের দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জ্বালানিমন্ত্রী বাংলাদেশের তেল ট্যাংকারগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য ইরান সরকারকে অনুরোধ করতে বলেছেন। আমি এটি করেছি। আমি ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁরা এ জন্য প্রস্তুত।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘যদি আপনাদের কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন করতে চায়, তাহলে আমরা সেগুলোকে নিরাপদে যেতে দেব, যাতে বাংলাদেশের প্রিয় মানুষদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।’
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির এক পাশে শত শত তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়েছে। সৌদি আরবের রাস তানুকা বন্দর থেকে প্রায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে বাংলাদেশমুখী একটি ট্যাংকার কয়েক দিন ধরে বন্দরে আটকে রয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জাহাজটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে খোলা সাগরে বের হতে পারছে না।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেলবাহী আরেকটি ট্যাংকারের যাত্রাও বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের একটি জাহাজও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে পারছে না।
দেশ রূপান্তর
‘ইরানের পেছনে চীন রাশিয়া’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উপসাগরে এবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের নেপথ্য থেকে আমেরিকার বৈশ্বিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও চীনের সহায়তা পাচ্ছে ইরান। এ লড়াইয়ে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ খরচ হচ্ছে; অন্যদিকে এটি একটি নতুন ধরনের ‘যুদ্ধ কাঠামো’ উন্মোচন করেছে যেখানে কোনো সম্মুখ সমরাঙ্গন নেই; যা ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে নয়, বরং রাডার বিম, স্যাটেলাইট ফিড এবং এনক্রিপ্ট করা স্থানাঙ্কের মাধ্যমে লড়া হচ্ছে।
এদিকে, ইরানের সামরিক কৌশলের নেপথ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অদৃশ্য হাত’ রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। উত্তর ইরাকের এরবিলে পশ্চিমা বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান ও তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর ড্রোনচালকরা ক্রমেই ‘রুশ রণকৌশল’ গ্রহণ করছে।
যুক্তরাজ্যের নর্থউড সামরিক কমান্ড সেন্টার পরিদর্শনকালে যুক্তরাজ্যের চিফ অব জয়েন্ট অপারেশনস লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিক পেরি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলিকে বলেন, রাশিয়া এখন ইরান ও তাদের অনুগত গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন মোতায়েন ও ব্যবহারের বিষয়ে কৌশলগত পরামর্শ দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। পেরি বলেন, ইরানি ড্রোনচালকরা এখন ড্রোনগুলো অনেক নিচু দিয়ে ওড়াচ্ছে, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর এবং এগুলো ঠেকানো বেশ ‘কঠিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জন হিলি সাংবাদিকদের বলেন, পুতিনের অদৃশ্য হাত যে ইরানের কৌশলের পেছনে কাজ করছে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, বর্তমানে তেলের আকাশচুম্বী দাম থেকে একমাত্র পুতিনই লাভবান হচ্ছেন। এর ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য তার তহবিলে অর্থের জোগান বাড়ছে।
