বছরের প্রথম সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক। রয়েছে কাদার ভোগান্তিও। থমকে দাঁড়িয়েছে সবকিছু। জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিষণ্ন মনে কাদাপানির চিত্র দেখছেন ব্যবসায়ীরা। ভেস্তে গেছে গতকালের ঈদবাজার। এর জন্য দখল দূষণ আর অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
সরজমিন অনুসন্ধান ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সরাইল সদরের সরকারি খাল ও একাধিক ব্যক্তি মালিকানা পুকুর জলাশয় ভরাট করে ফেলেছেন প্রভাবশালীরা। পরিবেশ আইন অমান্য করে শুধু ভরাটই করেননি। ওইসব জায়গায় গড়ে তুলেছেন মার্কেট বিপণিবিতান ও অট্টালিকা। স্থায়ী ইমারত নির্মাণকালে অনেক জায়গায় বন্ধ হয়েছে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। নিজেদের মার্কেট ও অট্টালিকার পানি কোথায় যাবে? কীভাবে নিষ্কাশন হবে? তাও ভাবেননি। আর এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ জনগণ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার জন্য সম্প্রতি দেড়-দুইশত পরিবার উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। কোনো প্রতিকার হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কেউই এগিয়ে আসেননি। গতকাল শুক্রবার সকালে এ বছরের প্রথম বৃষ্টি হয় সরাইলে। বৃষ্টির পরই সরাইল সদরের হাসপাতাল মোড় থেকে সকাল বাজার এলাকা পর্যন্ত সড়কে প্রায় ৩-৪ ইঞ্চি উচ্চতার কাদার স্তর পড়ে। আর অন্নদা স্কুল মোড়ের আশপাশের সড়ক বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায়। সড়কের পাশের অনেক দোকানে পানি প্রবেশ করে। অনেক দোকান মালিক পানি আটকানোর জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ঈদুল ফিতরের জমজমাট বাজারের ক্রেতাসহ সাধারণ জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। কারণ শুধু পানি নয়। সড়কের অনেক জায়গায় কাদার স্তর ভেদ করেই নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলতে হচ্ছে। সকলের গায়ের পোশাকই কাদাপানিতে একাকার। দুপুরের আরেক পশলা বৃষ্টির পর আবারো স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। অন্নদা স্কুল মোড়, মুন্সি মার্কেট, বকুলতলা, দেওয়ান মার্কেট, বিকাল বাজার, সকাল বাজার সর্বত্রই ক্রেতাদের দুর্ভোগ।
সমাজকর্মী মো. রওশন আলীসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট খাল দখলের কারণে পানি নিষ্কাশন বন্ধ ও অব্যবস্থাপনার কারণেই এই করুণদশা। খাল উদ্ধারে কোনো ব্যবস্থা কেউই নেননি। এরপর বাজারের পানি ত্বরিত নিষ্কাশনের সঠিক কোনো ব্যবস্থাও দেখছি না। আমরা অভাগা সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে ভাসতে থাকি। একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, এখন বিক্রির পুরো সময়। আজকের সড়কের দুরবস্থার কারণে শত শত ক্রেতা ফিরে গেছেন। সরাইল সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার বলেন, অন্নদা মোড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ফান্ড থেকে ৩ লাখ টাকায় কালভার্ট ড্রেন ও নিজসরাইল ব্রিজের নিচে ২ লাখ টাকা খরচ করে কাজ করেছি। দ্রুতগতিতে পানি সরে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেøøাগতিতে বাজারের পানি নিষ্কাশনের জন্য ফুটপাথ ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের অসচেতনতা দায়ী। তারা সকল প্রকার ময়লা আবর্জনা কাগজ এই ড্রেনে ফেলে জাম করে রেখেছেন।
সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে সরাইলের প্রধান সড়ক, দুর্ভোগ
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
১৪ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
