স্মৃতিসৌধে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

সংসদে স্লোগান দেয়া ঠিক না, এটি রেওয়াজের বাইরে

ফন্ট সাইজ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলের ওয়াক আউট প্রসঙ্গে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, সংসদে ওয়াক আউট একটি প্রচলিত রীতি। এটি সব সময় হয়ে থাকে। আমরা যখন বিরোধী দলে ছিলাম, আমরাও করেছি। আমি বলবো- তারা মোটামুটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। তবে সংসদে স্লোগান দেয়া ঠিক না। এটি সংসদের রেওয়াজের বাইরে। গতকাল জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকারের পর জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। পরে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্পিকার বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে স্বৈরাচারকে বিদায় করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। এই মাফিয়ারা যাতে আর পুনর্বাসিত হতে না পারে। দেশে আবার তাদের পুনরুত্থান যাতে না হয়, সেজন্য প্রত্যেক গণতান্ত্রিক শক্তি, রাজনৈতিক দলকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, সংসদে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য দল থেকে পদত্যাগ করেছি। বিরোধী দলও সংসদে যথেষ্ট সুযোগ পাবে। স্বৈরাচার হটানোর আন্দোলনে আমরা একইসঙ্গে ছিলাম। তাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট সহনশীলতা রয়েছে। সংসদ পরিচালনায় আমার ভূমিকা হচ্ছে ক্রিকেট খেলায় আম্পায়ারের মতো নিরপেক্ষ।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, জাতীয় স্মৃতিসৌধ পবিত্রতম একটি স্থান এবং যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ধারক ও বাহক। এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান বোধ করছি ও অনুপ্রাণিত হয়েছি। স্পিকার গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের স্মরণ করেন। একইসঙ্গে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, আমি নিজেও মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলাম এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অধীনে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করার সৌভাগ্য হয়েছে। যুদ্ধে আমি আহত হয়েছিলাম। গত ১৭ বছর বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র, অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ যারা মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে এবং স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন তাদের অবদানও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন।

জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা: এদিকে স্মৃতিসৌধ থেকে ফিরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলাস্থ জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। এসময় তারা কিছুক্ষণ নীরবতা পালন এবং রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপনীত হয়েছি যখন দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত হয়েছে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যার নেতৃত্বে আমরা সম্মুখযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে দখলমুক্ত করেছি এবং গণতন্ত্রের মহান নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যিনি সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেছেন-তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করেছি। এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন