তামিমকে ঘিরে পরবর্তী নির্বাচনের ছক

রিপোর্ট পেলেই বিসিবি’র কমিটি ভেঙে দিবে এনএসসি!

তামিমকে ঘিরে পরবর্তী নির্বাচনের ছক

ফন্ট সাইজ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন ঘিরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অভিযোগ ও অনিয়মের তদন্তে অবশেষে আনুষ্ঠানিক আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটির কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে বিসিবি’র গত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বৈধতা যাচাইয়ের গুরুভার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এই উদ্যোগে এরই মধ্যে পূর্ণ সম্মতি জানিয়েছে এবং এর মাধ্যমে দেশের ক্রিকেটের হারানো ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই তদন্ত রিপোর্টের ওপরই বর্তমানে নির্ভর করছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের ভবিষ্যৎ। ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই এনএসসি সরাসরি বোর্ড ভেঙে দিতে পারে এবং সেই আইনগত ক্ষমতা তাদের রয়েছে। মূলত অগণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটার তালিকায় রদবদল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের যে অভিযোগ উঠেছিল, তা এই তদন্তের মূল ভিত্তি। বিসিবি’র পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা আইনি প্রক্রিয়া শুরু করব। এনএসসির একটা ধারা আছে, যদি কোনো নির্বাচনে অনিয়ম বা দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে তারা সেই বোর্ড বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে। সেই ধারার অধীনেই আমরা এগোব।’
বিসিবির ২০২৫ সালের নির্বাচনটি দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এক প্রশ্নবিদ্ধ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর হঠাৎ করেই ভোটার তালিকায় বড় ধরনের রদবদল করে ৫৪ জন কাউন্সিলরকে সরিয়ে পছন্দের ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ৭৫টি ক্লাবের মধ্যে অন্তত ৪৫টি ক্লাব নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভোট বর্জন করেছিল। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই সংগঠকরা একজোট হয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ রয়েছে যে, একটি বিশেষ পক্ষকে বিনা বাধায় জয়ী করতেই এমন অপকৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল। তাই বোর্ড ভেঙে দেওয়ার আইনি সুযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে রফিকুল ইসলাম দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এনএসসির আইনে এই ক্ষমতা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে। যদি কোনো ফেডারেশনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা অসাংবিধানিক কিছু ঘটে, এনএসসি পদক্ষেপ নিতে পারে।’ বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর প্রভাব নিয়ে বিশদ আলোচনার অবকাশ রয়েছে। ১৯৭৪ সালের এনএসসি আইনের ২০এ ধারাবলে পরিষদ যেকোনো ফেডারেশনের কমিটি বাতিল করার ক্ষমতা রাখে। তবে আইসিসি সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় বিসিবির ওপর কোনো সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা আসবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। অতীতে ফুটবলে এ ধরনের হস্তক্ষেপে বাংলাদেশ ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিল। তবে এবারের অভিযোগটি মূলত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও কারচুপির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় একে সাধারণ হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করতে নারাজ আন্দোলনরত সংগঠকরা। এ বিষয়ে আইসিসির গাইডলাইনের কথা উল্লেখ করে বাবু পরিষ্কার করেছেন, ‘না, এটা সরকারি হস্তক্ষেপ হবে গঠনগত নয়। কারণ এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পর্কিত। আইসিসির গাইডলাইনের ভেতরে থেকেই এনএসসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। আদালতে যাওয়ার অধিকার সবারই আছে, তবে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ ও নথিপত্র রয়েছে যা লঙ্ঘনের বিষয়গুলো স্পষ্ট করে। আমরা মনে করি না এটি সরকারি হস্তক্ষেপ হবে।’ তদন্ত শেষ হওয়ার পর দেশের ক্রিকেটের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন পরিকল্পনা। সাবেক তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল সমপ্রতি বোর্ড সভাপতি হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং নিজেকে এই পদের জন্য যোগ্য বলে মনে করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তথাকথিত অভিজ্ঞদের হাত থেকে ক্রিকেটকে বের করে এনে তরুণ ও দক্ষ সংগঠকদের হাতে তুলে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। তামিমের এই সাহসী অবস্থান এবং ক্লাব সংগঠকদের তার প্রতি সমর্থন বিসিবির আগামী নির্বাচনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। রফিকুল ইসলাম বাবু এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যান্য সংগঠকরাও তামিমকে ঘিরে একটি আধুনিক ও দুর্নীতিমুক্ত বিসিবি গড়ার স্বপ্ন দেখছেন। পরবর্তী নির্বাচনে তামিমকে সভাপতি প্রার্থী করার বিষয়ে জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘তামিম আমাদের দেশের একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তার অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে লাগানো উচিত। তবে সভাপতি হওয়ার বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসতে হয়। আগে তদন্ত শেষ হোক, অ্যাডহক কমিটি গঠন হোক, তারপর সবাই মিলে বসে সিদ্ধান্ত নেব। অবশ্যই তিনি আমাদের ভাবনায় আছেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তদন্ত রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছেন, যার ওপর নির্ভর করছে বিসিবি’র ভবিষ্যৎ।’

মোঃ আতাউর রহমান

২ মাস আগে

আওয়ামী লীগের আমলে চাচা আক্রাম সাব খেয়েছে, বিএনপির আমলে ভাতিজা তামিম সাব খাবেন।

মোঃ আতাউর রহমান

২ মাস আগে

চাচা আওয়ামী লীগের হয়ে খেয়েছে, এখন ভাতিজা বিএনপির হয়ে খাবে।

Muhammod Hossain

২ মাস আগে

তামিমের মতোন রঙ পরিবর্তন করা গিরগিটি যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হয় তাহলে বলতে হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট পেছনের দিকে হাটবে৷ ক্রিকেটার হিসেবে তার যোগ্যতা থাকতে পারে কিন্ত ক্রিকেট প্রশাসক হিসেবে তার কোন যোগ্যতা এখনও সৃষ্টি হয়নি। সে ফ্যাসিবাদের একজন দোসর এবং সুবিধাভোগী ছিলো

Riaz

২ মাস আগে

আপনাদের অনুরোধ ক্রিকেট কে শেষ করে দিয়েন না। যারা আছে তাঁদের সময় দেন। তামিম অনেক ভালো খেলোয়াড় যখন আওয়ামীলীগ ছিলো তখন হাসিনার বাসায় দওয়াত খেয়ে বেরিয়েছে এখন ধানের শীষ এ ভর করেছে।
খেলোয়াড় জীবনে সে খেলেছে নিজের ইস্সা মতো যেনো মামুর বাড়ির আবদার এখন আরেক খেলা শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন