মিরপুরের উইকেটে তখন ব্যাট হাতে দাপট দেখাচ্ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগা। তাদের গড়া শতরানের জুটি পাকিস্তানকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছিল। ঠিক তখনই দৃশ্যপটে মেহেদী হাসান মিরাজের আগমন এবং একটি ব্যতিক্রমী রান আউট পুরো ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। এই একটি মুহূর্তেই যেন ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। শুক্রবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় দিবারাত্রির ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের ইনিংসের সবচেয়ে নাটকীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল এটি। ৩৯তম ওভারে এই রান আউটের শিকার হয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে মাঠ ছাড়েন সালমান। তার আউটের আগে পাকিস্তান ৩ উইকেটে ২৩১ রান তুলে বিশাল সংগ্রহের পথে ছিল। কিন্তু মিরাজের উপস্থিত বুদ্ধির পর মাত্র ৪৩ রানের ব্যবধানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পেসাররা আলো ছড়ালেও এদিন স্পিনাররা ছিলেন মূল নায়ক। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে ধস নামান। অন্যদিকে মিরাজ কেবল এই রান আউটেই নয়, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েও পাকিস্তানের রানের চাকা আটকে রাখেন। এই রান আউটের বিতর্ক এবং এর পরবর্তী নাটকীয় ধস প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে দেয়। নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে ৩৯তম ওভারের শেষ বলে। মিরাজের বলটি মিড অন-এর দিকে খেলেছিলেন রিজওয়ান। বল গড়িয়ে যায় নন-স্ট্রাইকার প্রান্তে থাকা ব্যাটসম্যান সালমানের দিকে। ফলো থ্রু শেষে দ্রুত বল কুড়িয়ে নিতে ছুটে যান মিরাজ। সালমান তখন ক্রিজের বেশ বাইরে; মিরাজকে বল কুড়াতে বাধা দিতে যেন সচেতনভাবেই নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে তাকে আড়াল করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু মিরাজ হাল না ছেড়ে সালমানের আগেই নিচু হয়ে বল কুড়ান। এরপর ক্ষিপ্রতার সঙ্গে আন্ডারআর্ম থ্রোয়ে সরাসরি স্টাম্প ভেঙে দেন। সালমান তখনো ক্রিজের বাইরে ছিলেন। মাঠের আম্পায়ার তানভীর আহমেদ সিদ্ধান্তটি টিভি আম্পায়ারের কাছে পাঠান। জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে দেখে টিভি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা তাকে আউট ঘোষণা করেন। টিভি স্ক্রিনে আউটের লাল সংকেত দেখে মাঠেই মেজাজ হারিয়ে ফেলেন সালমান। শুরুতে তিনি হেসে কথা বললেও আউটের নির্দেশ দেখার পর হাত থেকে গ্লাভস খুলে ছুড়ে মারেন। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে মাঠ ছাড়ার সময় তিনি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করেন। এ পর্যায়ে বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস এগিয়ে গিয়ে কড়া জবাব দেন। সীমানাদড়ি পার হয়ে সালমান রাগে গজগজ করতে করতে মাটিতে হেলমেট ছুড়ে মারেন। ৬২ বলে ৬৪ রান করা সালমানের বিদায়েই ভাঙে ১০৯ রানের সম্ভাবনাময় জুটি। এরপর বাংলাদেশের স্পিনাররা পুরোপুরি চেপে বসেন। পরের ওভারেই মিরাজের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ৪৪ রান করে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন রিজওয়ান। এরপর রিশাদ হোসেনের ঘূর্ণিতে বিভ্রান্ত হয়ে একে একে সাজঘরে ফেরেন হুসাইন তালাত, অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। ম্যাচের প্রথম ভাগে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর এদিন দারুণ শুরু করে পাকিস্তান। তরুণ ওপেনার মায়াজ সাদাকাত সতর্কতা ঝেড়ে ফেলে মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। সাতটি চার ও ছয় ছক্কায় সাজানো তার এই ইনিংস পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেয়। সাহিবজাদা ফারহান ও শামিল হোসেন দ্রুত ফিরে গেলেও সাদাকাত একাই রান রেট আটের ওপরে ধরে রেখেছিলেন। তিনি আউট হওয়ার পর রিজওয়ান ও সালমান দলকে বড় লক্ষ্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তারা প্রায় ২০ ওভার ক্রিজে টিকে থেকে স্বাগতিকদের ঘাম ঝরান। কিন্তু মিরাজের ওই এক ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। বড় সংগ্রহের পথে থাকা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ২৭৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। বৃষ্টিবিঘ্নিত এই রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও, মিরাজের সেই জাদুকরী মুহূর্তটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের চুম্বক ঘটনা।
একটি রান আউট, টাইগারদের স্বস্তি
স্পোর্টস রিপোর্টার
১৪ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

জামশেদ পাটোয়ারী এম.এস.সি এম.এড
২ মাস আগেশান্ত, লীপু, বাশার সুমন, মেরাজের বুঝা উচিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আর আবাহনীর ক্লাব ক্রিকেট এক নয়. এখানে শারীরিক যোগ্যতা, মেধা আর দক্ষতা লাগে।