মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশ

খাগড়াছড়ির গুচ্ছগ্রামের রেশন অনিয়মে তদন্ত কমিটি

ফন্ট সাইজ:

খাগড়াছড়ির গুচ্ছগ্রামগুলোতে রেশন বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর প্রশাসন অবশেষে তদন্তে নেমেছে। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসক। ইতিমধ্যে কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে এবং আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শুক্রবার খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলার মোট ৮১টি বাঙালি গুচ্ছগ্রামে ২৪ হাজার ২২০ জন রেশন কার্ডধারী রয়েছে। সরকারিভাবে এসব গুচ্ছগ্রামের পরিবারগুলোর মাঝে প্রতি তিন মাস অন্তর খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়। তবে চলতি মাসে রেশন বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। গত ৯ই মার্চ থেকে বিভিন্ন উপজেলায় রেশন বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। রেশন নিতে আসা ভুক্তভোগী কার্ডধারীরা অভিযোগ করেন, অনেক জায়গায় নিম্নমানের ও পচা আতপ চাল বিতরণ করা হয়েছে, আবার কোথাও ওজনে কম দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম খাদ্যশস্য দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেশন বিতরণের আগে খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাই করার কথা থাকলেও তা একদমই মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারদের যথাযথ তদারকির অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক জায়গায় ট্যাগ অফিসার উপস্থিত না থাকলেও বিতরণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে যেখানে ট্যাগ অফিসার নিজে উপস্থিত নেই সেখানে কারা রেশন বিতরণ করেছে? এতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় “খাগড়াছড়িতে গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণে অনিয়ম, খাদ্য নিরাপত্তায় সংকট” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষিত হয় এবং দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “গুচ্ছগ্রামে রেশন বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তিনি আরও জানান, গুচ্ছগ্রামের সুবিধাভোগীরা যাতে সঠিকভাবে সরকারি সহায়তা পান, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে রেশন বিতরণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন