সিন্ডিকেটে অসহায় চাষি: ৯৫ টাকার বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়

সিন্ডিকেটে অসহায় চাষি: ৯৫ টাকার বস্তা কিনতে হচ্ছে ১২০ টাকায়

ফন্ট সাইজ:

‘ঘণ্টায় ঘণ্টায় দাম বাড়ছে বস্তার। ইফতারের আগে যে বস্তার দাম চাওয়া হয়েছে ১১৭ টাকা, ইফতারের পর সেই বস্তার দাম নেয়া ১২০ টাকা। আকাশের অবস্থা ভালো নয়, বিপদে পড়ে বেশি দামে বস্তা কিনেছি। দেশে কোনো আইন নেই। ইচ্ছামতো বেচাকেনা চলছে।’ গত বুধবার সকালে কালাই পৌরশহরের মেসার্স রহিম ট্রেডার্সে বস্তা ক্রয় করতে এসে এমন কথাগুলো বলছিলেন কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় আলু চাষিরা বর্তমানে বস্তার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, গত সপ্তাহেও যে খালি পাটের বস্তা ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় পাওয়া যেতো, বর্তমানে সেই বস্তা কিনতে হচ্ছে ১১৮ থেকে ১২০ টাকায়। অল্প সময়ের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি প্রায় ২০ থেকে ২৫ টাকা দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের খরচ বেড়ে গেছে। তাদের দাবি, আলুর বাজারদর কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে রয়েছেন। তাই অনেকেই আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু আলু সংরক্ষণে বস্তা প্রয়োজন হওয়ায় বেশি দামে বস্তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। অথচ বর্তমানে বাজারে আলুর দাম কমে যাওয়ায় প্রতি বিঘার আলু বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকা। এতে অনেক কৃষক বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন। এ অবস্থায় বস্তার দাম বাড়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনী গ্রামের কৃষক লক্ষণ বর্মণ অভিযোগ করে বলেন, আলুর দাম কমে গেছে, হিমাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কিন্তু বস্তার দাম বেশি হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছি। কি কারণে দাম বেড়েই চলছে, তা আমার বোধগম্য নয়। এ যেন চাষিদের মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।’ উপজেলার পুনট পাঁচপাইকা গ্রামের মিঠু ফকির বলেন, একদিকে আলুর দাম নাই, অন্যদিকে বস্তার দাম বেড়েই চলেছে, এভাবে চলতে থাকলে শেষমেশ যে কি হবে, তা আর বলার উপেক্ষা রাখে না। বাজারে আলুর দাম না বাড়লে এবারো ধরা খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তার চেয়ে ভালো আলুর চাষ আর করবো না।’ তবে বস্তা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুনট বাজারের বস্তা ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, পাটের দাম বেড়ে যাওয়ায় বস্তা উৎপাদনের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক মাস আগেও যেখানে প্রতি মণ পাটের দাম ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। একটি বস্তা তৈরি করতে প্রায় ৬০০ গ্রাম পাট লাগে এবং কারখানা খরচ, বিদ্যুৎ ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে একটি বস্তা তৈরিতে প্রায় ১১০ টাকার মতো খরচ পড়ে। তাই বর্তমান বাজারদরকে তারা স্বাভাবিক বলেই দাবি করছেন। এ বিষয়ে জয়পুরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি অনোয়ারুল হক আনু জানান, পাটের মজুত কমে যাওয়া এবং হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে বস্তার দাম বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগের সঙ্গে কথা বলা হবে যাতে কৃষক ও ব্যবসায়ী উভয়েই উপকৃত হন। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক আল মামুন মিয়া জানান, যদি কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে সিন্ডিকেট করে বস্তার দাম বাড়িয়ে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন