অর্ধেক ভোট গণনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচন স্থগিতের নেপথ্যে-

ফন্ট সাইজ:

দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে অর্ধেক ভোট গণনার পর রাতে স্থগিত করা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন। ভোটারের ‘গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে’ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছ থেকে এমন অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট আব্দুল মালেক নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মালেক বলেন, সারাদিন আমরা নির্বাচন করেছি। এরপর আমরা প্রায় ২০০ ভোট গণনা করেছি। একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছি। তারা বলেছেন, ব্যালটের ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল না। কিন্তু এটা কোনো ত্রুটি না। আমাদের কাজ করার পরিবেশ থাকতে হবে। ভোট গণনার কোনো পরিবেশ ছিল না। আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা। নির্বাচনে সমিতির মোট ৬৮৯ জন ভোটারের মধ্যে ৬৫৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত দুই শতাধিক ভোট গণনা করা হয়। এর আগে সন্ধ্যায় সিনিয়র সহ-সভাপতি পদের স্বতন্ত্র প্রার্থী সুধীর চন্দ্র ঘোষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এতে তিনি বলেন, ভোটারদের ব্যালট ও মুড়িতে একই ক্রমিক নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ভোটারের ‘গোপনীয়তা নষ্ট হয়েছে’। সে কারণে নির্বাচন ও ভোট গণনা স্থগিতের দাবি করেন তিনি। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমানও মৌখিকভাবে একই অভিযোগ জানান নির্বাচন কমিশনে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাতে ভোট গণনা ও নির্বাচন স্থগিত করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আইনজীবী সমিতির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে যে, ভোট গণনা হয়েছে তাতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ৫০/৬০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তাদের সবার জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিলো। তখনই জোর করে এটা করা হয়। নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত সভাপতি প্রার্থী ছিলেন সরাইল উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মফিজুর রহমান বাবুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. ইউসুফ কবীর ফারুক, মো. ফরহাদ আহমেদ, সামসুল হক, সুধীর চন্দ্র ঘোষ; সহ-সভাপতি পদে আব্দুল হাকিম ও মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন সরকার; সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনিসুর রহমান মঞ্জু, আওয়ামী লীগের একেএম আব্দুল হাই, সৈয়দ তারেক আলী, মুখলেছুর রহমান ও মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, মোহাম্মদ বশির আহমেদ খান। সভাপতি প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, কোনো সমস্যা ছিল না। ভোট গণনা অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত করেছে প্রধান নির্বাচন কমিশন। এটা বিধি বিধানের বাইরে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন