সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে খরার কারণে বোরো ফসল ঘিরে শঙ্কার মেঘ কেটে গেছে স্বস্তির বৃষ্টিতে। তবে বাঁধের কাজ শেষ না হওয়ায় টানা বৃষ্টি শুরু হলে ঢলের ভয়ে আছেন কৃষকরা। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমের দ্বিতীয় দফা বৃষ্টি হয়, যা ছিল দীর্ঘস্থায়ী। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় কৃষকরা। বৃষ্টি না হওয়ায় মরতে থাকা বোরো ফসলে ফিরেছে নতুন প্রাণ। এদিকে বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরলেও অস্বস্তি আছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি বাঁধের কাজের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে এখনো কাজ শেষ হয়নি। বর্ধিত সময়েও শেষ হবে কিনা, তা বলা কঠিন। জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে এখনো মাটি কাটার কাজ সম্পন্ন হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাঁধের কাজের আরও ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কাজ হয়ে যাবে। জগন্নাথপুর পৌরসভার বাড়ি জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষক মুজই আলী বলেন, বর্তমানে জমিতে ধানের ছড়া বা থোড় আসার সময়। এই সময়ে ধানের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন; কিন্তু হাওরে পানি সংকট ও বৃষ্টি না হওয়ায় ধানের চারা মরে যাচ্ছিলো। বৃষ্টিতে ফসলের প্রাণ ফিরেছে। চিলাউড়া গ্রামের কৃষক শিহাব বলেন, তীব্র রোদে কয়েকদিন ধরে জমি ফেটে চৌচির। পানির অভাবে অনেক জায়গায় ধানগাছ লালচে বর্ণ ধারণ করতে শুরু করেছিল। ঠিক এমন সময় এই বৃষ্টি কৃষকদের দুশ্চিন্তা দূর করে মুখে হাসি ফুটিয়েছে। তবে হাওরে বাঁধের কাজ এখনো শতভাগ শেষ না হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ বলেন, এ সময় বৃষ্টি হওয়া ফসলের জন্য খুবই প্রয়োজন ছিল। সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় ফসল ভালো হবে। এ বছর ২০ হাজার ৪২৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফা বৃষ্টিতে বোরো নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটলো
জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৪ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
