এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য ‘স্বাধীনতা স্মারক’-এর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এ সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে একে একে পাঁচজন উপাচার্য পরিবর্তন হলেও ঝুলে আছে নির্মাণকাজ। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার আমলে জনতা ব্যাংকের অনুদানে স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরের বছর ২০১৩ সালের ২৮শে নভেম্বর তৎকালীন তৃতীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম নূর-উন-নবী ভাস্কর্যটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে কিছুদিন পরই নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে চতুর্থ উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ পুনরায় কাজ শুরু করলেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ বন্ধ করে ইউজিসিকে তদন্তের নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পগুলোর (স্বাধীনতা স্মারক, রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ১০ তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হল) কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে অনিশ্চয়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এই তিন মেগা প্রকল্পের কাজ। তবে সমপ্রতি রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও ছাত্রী হলের কাজ শুরু হলেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ শুরু হয়নি। এদিকে প্রকল্পটির নির্মাণব্যয় সেই সময়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তৎকালীন উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর আমলেও স্মারকটির নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, বিশিষ্ট স্থপতি মুনাওয়ার হাবীব তুহিন এর নকশায় স্বাধীনতা স্মারক নামের এই ভাস্কর্যটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম ভাস্কর্য। এটি ১১ হাজার ৬৯৬ বর্গফুট আয়তনের বেদির উপরে তিনটি ফ্রিঞ্জ (স্তম্ভ) দ্বারা তৈরি হবে। এগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছে বুঝানো হয়েছে। ফ্রিঞ্জগুলোকে একত্রিত করার জন্য ২০ ফুট উচ্চতায় একটি শুরঙ্গ ছাঁদ। এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে যুদ্ধ করেছে তা বুঝানো হয়েছে। পাথর দ্বারা নির্মিত ফ্রেঞ্জগুলোর গায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংবলিত কারুকার্য থাকবে এবং ফ্রিঞ্জের ঠিক পিছনে ঢালু অংশে বিভিন্ন ম্যুরাল থাকবে। ভাস্কর্যটি সামকগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের বিশালতা বোঝাবে। তবে একই মেগা প্রকল্পের আওতায় থাকা রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও একটি ছাত্রী হলের কাজের অনুমোদন মিললেও স্বাধীনতা স্মারকের কাজ এখনো অনুমোদন পায়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী তাসবীউল হাবিব নিশাদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই স্মারকটির একই অবস্থা দেখছি। বর্তমান প্রশাসন অনেক স্থবির প্রকল্প চালু করেছে। আশা করছি এ স্থাপনাটির কাজও দ্রুত করবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আমরা ৭৭ কোটি টাকা পেয়েছি। এই অর্থ দিয়ে ছাত্রী হল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাজ শুরু করা হবে। ঠিকাদারের কাছেও কিছু অর্থ রয়েছে। ধাপে ধাপে স্বাধীনতা স্মারকের বাকি কাজও সম্পন্ন করা হবে।
এক যুগ পার হলেও শেষ হয়নি বেরোবি’র স্বাধীনতা স্মারকের নির্মাণকাজ
বেরোবি প্রতিনিধি
১৪ মার্চ (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
