আমতলীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, লাভের আশায় কৃষক

আমতলীতে তরমুজের বাম্পার ফলন, লাভের আশায় কৃষক

ফন্ট সাইজ:

গরম এবং রোজায় অধিক মূল্য পাওয়ার আশায় আমতলীতে এবছর আগাম তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা। ফলনও হয়েছে ভালো। প্রতিদিন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত তরমুজ ট্রাক, ট্রলি ও টমটমসহ নানা বাহনে করে ক্ষেত থেকে নিয়ে আসছেন আমতলীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। ইতিমধ্যে ফলের দোকান, সড়কের পাশ ধরে এবং কাঁচা বাজারে সাজিয়ে কিংবা ভ্যান গাড়িতে করে বিক্রি করছেন তরমুজ। এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কৃষকরা লাভের স্বপ্ন দেখছেন তাদের বহু শ্রমে চাষ করা তরমুজ ক্ষেতে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় ৪ হাজার ৩শ’ ০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ টন। মৌসুম শুরু এবং এখন পর্যন্ত ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে এবছর আশা কৃষি বিভাগের। বুধবার সকালে আমতলীর নতুন বাজার চৌরাস্তা ঘুরে দেখা গেছে সড়কের দু’পাশ, ফলের দোকান, কাঁচা বাজারে প্রতিটি দোকানে ভরে গেছে তরমুজে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো বলে জানান ফল ব্যবসায়ী আরাফাত। আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নের চিলা গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান ৩৩ শতাংশ তরমুজ চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকার মতো। তার ক্ষেত জুড়ে তরমুজে ভরে গেছে আর ২-৩ দিনের মধ্যে তরমুজ বিক্রি শুরু করবেন। তিনি জানান- ফলন ভালো হয়েছে তাতে ৫ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করা যাবে। আমতলী চৌরাস্তা নতুন বাজার এলাকার আড়তদার মো. ফরিদ মুন্সী জানান- ছোট এবং মাঝারি সাইজের তরমুজ ১৮০ থেকে ২শ’ টাকা এবং বড় সাইজের তরমুজ আড়াইশ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, গত ২-৩ দিন ধরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী এবং কুয়াকাটা থেকে প্রচুর পরিমাণ তরমুজ আসছে বাজারে। দামও নাগালের মধ্যে বলে তিনি মনে করেন। উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. বেল্লাল হোসেন জানান, তরমুজে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তরমুজ চাষ শুরু করেন। ঠিকমতো পরিচর্যা করলে ৩ মাসের মধ্যে ভালো ফলন পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন- ধানের পর আমতলীতে দ্বিতীয় ফসল হিসেবে তরমুজ চাষ করছেন চাষিরা। এবছর মৌসুমের শুরু থেকে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক উৎপাদন হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন