ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান কেসি-১৩৫ বিধ্বস্তে চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সেন্টকম জানায়, বৃহস্পতিবার বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্তের সময় বিমানে মোট ছয়জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বাকিদের উদ্ধারে এখনো তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষের দাবি, বিমানটি কোনো ধরণের আক্রমণের শিকার হয়নি। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী স্বজনদের অবহিত করার ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম জনসমক্ষে আনা হবে।
যুক্তরাষ্ট্র একে দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভিন্ন দাবি করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে সক্রিয় তাদের একটি মিত্র গোষ্ঠী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ভূপাতিত করেছে। উল্লেখ্য, যে এলাকায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমান দ্বন্দ্বে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত চারটি বিমান হারাল। এর আগে চলতি মাসের শুরুর দিকে কুয়েতে ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এর কবলে পড়ে তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল।
বোয়িং-এর তৈরি এই স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমানগুলো মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো মাঝআকাশে যুদ্ধবিমানে জ্বালানি সরবরাহ করে দীর্ঘমেয়াদী মিশন পরিচালনায় সহায়তা করে। ১৯৫০-এর দশকে তৈরি হলেও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগুলো এখনো মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
