ভারতের লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ধ্বনি ভোটে খারিজ হওয়ার পর বিরোধী ইন্ডিয়া জোট এবার দেশটির মুখ্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে শুক্রবার সংসদে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে অন্তত ১৯৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন। সাত দফা অভিযোগ আনা হয়েছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ।
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, সংসদে ইমপিচমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্বেও বিরোধী শিবিরের এই পদক্ষেপ মোদি সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ। তবে ভারতে এই প্রথম নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ভাবে ইমপিচমেন্টের প্রস্তাব আনা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীরা নানা অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন। লোকসভার বিরোধী দল নেতা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বার বারে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষ, লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের অন্য শরিকরাও।
সংসদে জমা দেওয়া নোটিশে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বৈষম্যমূলক আচরণ’, ‘নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি’ ও এসআইআর-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ। সংসদের দুই কক্ষেই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ জমা দেওয়া হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী, লোকসভার স্পিকার এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ওই প্রস্তাব গ্রহণ করা
হবে কিনা তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রস্তাব গৃহীত হলে ৩ সদস্যের কমিটি গঠিত হবে। সেই কমিটি ছাড়পত্র দিলে সেটি সংসদে পেশ করা হবে এবং তা নিয়ে আলোচনা হবে। বিতর্কের পর সেই প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে।
মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
অনলাইন
২ মাস আগে
১৩ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬, ৪ঃ১৩ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
