ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ যুদ্ধবিমান ধ্বংস করেছে ইরাকি রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, পশ্চিম ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান ‘দুর্ঘটনার কারণে’ ধ্বংস হয়েছে। এরপর উদ্ধার অভিযান চলছে। ‘দুর্ঘটনায়’ আরও একটি মার্কিন বিমান আক্রান্ত হয়। তবে তা নিরাপদে ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। সেন্টকম দাবি করেছে, ঘটনাটি শত্রু বা বন্ধুত্বপূর্ণ আগুনের কারণে হয়নি। তারা বলেছে, ‘ঘটনাটি’ সৌহার্দ্যপূর্ণ বায়ুমণ্ডলে ঘটেছে। অপারেশন এপিক ফিউরি নামের মিলিটারি অভিযানের এ ঘটনা ঘটে। আহত বা নিহতদের সংখ্যা নিশ্চিত নয়। গোপনীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় বিমানটিতে প্রায় ছয় জন সেনা সদস্য উপস্থিত ছিল। উল্লেখ্য, ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক, ইরান সমর্থিত একটি যোদ্ধা গোষ্ঠী। তারা ওই বিমানটি ধ্বংসের দায় স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও আকাশসীমা রক্ষার জন্য কেসি-১৩৫ বিমানটি গুলি করেছে। কেসি-১৩৫ বিমানটি ১৯৫০-৬০-এর দশকে বোয়িং তৈরি করেছে। এটি মার্কিন মিলিটারি ফ্লিটের এয়ার রিফুয়েলিংয়ের মূল স্তম্ভ। যুদ্ধক্ষেত্রে এই ধরনের বিমান যুদ্ধবিমান এবং বোমারুকে অব্যাহতভাবে জ্বালানি সরবরাহ করে। ফলে ওইসব যুদ্ধবিমান বা বোমারু অবতরণ না করেই লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। গত সপ্তাহে কুয়েতে তিনটি মার্কিন ফাইটার জেট ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ ইস্যুতে ধ্বংস হয়। ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি এফ-১৫ই টুইন ইঞ্জিন ফাইটার জেট আগুনের মধ্যে পড়েছে। ছয়জন ক্রুর সবাই নিরাপদে বেরিয়ে বেঁচে গিয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক পরিমাণে বিমান পাঠিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, উত্তর ইরাকে এক আক্রমণে তার দেশের একজন সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। ইতালিয়ান একটি ঘাঁটিও আক্রমণের শিকার হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ইরান পরিস্থিতি খুব দ্রুত এগোচ্ছে। তবে যুদ্ধ চলবে। তিনি বলেন, আমাদের মিলিটারি তুলনাহীন, এমন কিছু কেউ দেখেনি।
তবে ইরানও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের শক্তি এবং নাগরিক অবকাঠামোর উপর আক্রমণ হলে তারা অঞ্চলের তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র ‘আগুনে উড়িয়ে দেবে।’ ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান লড়াই চালিয়ে যাবে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কৌশলগত প্রয়োগ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতিশোধ নেয়ার ক্ষেত্রে অবহেলা করব না।
ইরাকে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি রেজিস্ট্যান্টের পরস্পরবিরোধী দাবি
মানবজমিন ডেস্ক
বিশ্বজমিন
২ মাস আগে
১৩ মার্চ (শুক্রবার), ২০২৬, ১২ঃ৫৬ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

Kazi
২ মাস আগেআমেরিকার সেনাবাহিনীর এই যুদ্ধ সমর্থন করেন না । জোরপূর্বক আদেশ মানতে বাধ্য করছে ট্রাম্প। তাই আসল ঘটনা রহস্য পূর্ণ।